বিশ্বের শিয়া মুসলিমদের কাছে ইরাকের নাজাফ শহরটি অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগঘন একটি ধর্মীয় স্থান। ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা ও চাচাতো ভাই ইমাম আলী (রা.) এই পবিত্র ভূমিতে সমাহিত থাকায় খামেনির মরদেহ এখানে নিয়ে আসাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগত ধর্মীয় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এক যৌথ ও ভয়াবহ সামরিক হামলায় নিহত হন ইরানের দীর্ঘকালীন এই সর্বোচ্চ নেতা। তার মৃত্যুর পর থেকে ইরানে শুরু হওয়া বহুমাত্রিক শোক র্যালির ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই মরদেহটি ইরাকের এই পবিত্র শহরে আনা হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক জানাজা ও শোক মিছিলে সরাসরি অংশ নিতে ইতিমধ্যেই ইরাকের নাজাফ শহরে এসে পৌঁছেছেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বিমানবন্দরে আয়োজিত খামেনির বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ইরাকের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে কফিনটি শহরজুড়ে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। বুধবার সেখানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে একটি স্মরণকালের বৃহৎ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোক র্যালি শুরু হয়েছিল। প্রায় দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে সফল নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোকে কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অনড় ধারাবাহিকতা এবং ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এক কঠোর বার্তা দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।