ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

মার্কিন হামলার জবাবে লোহিত সাগরও বন্ধের ছক ইরানের


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:০৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো বা পাওয়ার গ্রিড লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে লোহিত সাগরের তেল পরিবহন রুট সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছে উচ্চপর্যায়ের অন্তত তিনটি আঞ্চলিক ও ইরানি সূত্র। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায়, নতুন করে লোহিত সাগরের এই অবরুদ্ধকরণ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে এক নজিরবিহীন ও চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক এক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি তেহরানের নীতিনির্ধারক মহলে লোহিত সাগর বন্ধের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার আলোকেই তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হুথিদের কাছে এই বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে বার্তাটি কোন মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার হুমকির পরপরই এই নির্দেশ গেছে কি না—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি সূত্রগুলো। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরান বা হুথিদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে হুথিদের একটি বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে, লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালী এবং ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকা হোদাইদাহ ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালানোর সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছে গোষ্ঠীটি। তারা এখন শুধু তেহরানের চূড়ান্ত সিগন্যালের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরাই মূলত এই অবরুদ্ধকরণের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করবেন।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অচল থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট চলছে। এর ওপর লোহিত সাগরের রুটটিও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুটি তেল রপ্তানি পথ একসঙ্গে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে কেবল বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বিপর্যয়ই ঘটবে না, বরং মার্কিন-ইরান সংঘাত এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়া। সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণের অভিযোগে সৌদি আরবের ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক তরবজর্ন সলভড বলেন, "লড়াই তীব্র হয়ে যদি লোহিত সাগরের অবকাঠামোয় আঘাত হানে, তবে তেল রপ্তানির শেষ বিকল্প পথটিও চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।" রিয়াদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরব এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং লোহিত সাগর নিয়ে হুথিরা এখন সরাসরি তেহরানের প্রেসক্রিপশনেই পা বাড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে এই সংকটের সূচনা হয়। পরবর্তীতে গত জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে এই উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয়, যা এখন লোহিত সাগরে ছড়িয়ে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর