আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত ৮ জুনের পর থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বগতির কারণে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বা ১ ডলার ৪৪ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ ডলার ২৭ সেন্টে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক মানদণ্ড গ্রিনউইচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২ শতাংশ বা ১ ডলার ৯৩ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি খাতের বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত ৮ জুনের পর এটিই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের রেকর্ড সর্বোচ্চ দাম।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়াতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনী সম্প্রতি ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো এবং একই সঙ্গে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বিভিন্ন তেলের ট্যাঙ্কারে ধারাবাহিক আক্রমণ জোরদার করায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব সংঘাতময় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের বাজারে।
এর আগের আন্তর্জাতিক ট্রেডিং সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলার ০৭ সেন্টে গিয়ে থিতু হয়েছিল। অন্যদিকে গত বুধবারের বাজারের লেনদেনে ডব্লিউটিআই তেলের দাম এক দিনেই প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ক্রমাগত আক্রমণ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে এই অস্থিরতা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।