আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র ও ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই নিজের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় এই আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর নতিস্বীকার ও পদত্যাগের ঘটনায় দেশের আন্দোলনকারী তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা ও সাধুবাদ জানিয়েছেন ভারতের শীর্ষ বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানী নয়াদিল্লিতে জনসমাবেশ ও আন্দোলনের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান যন্তর মন্তরে টানা আন্দোলন পরিচালনা করা অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তেই পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
দেশটির প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই বড় অর্জন ও সাফল্যের জন্য অদম্য শিক্ষার্থী এবং ঐক্যবদ্ধ বিরোধী দল— উভয়কেই সমান কৃতিত্ব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন যে, ভারতের ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিধ্বনি’ অবশেষে অহংকারী ক্ষমতার দ্বারে স্পষ্টভাবে পৌঁছেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল সংস্কার ও ঠিক করার দাবিতে দেশজুড়ে রাজপথে সোচ্চার হওয়া আমাদের লাখ লাখ তরুণের বিশাল জয় এটি। তিনি আরও বলেন, এটি মূলত সত্যের জয় এবং মোদির জেদের পরাজয়।
কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে এক্সে আরও লেখেন, এটি সেইসব অসহায় পরিবারের জয়, যারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের আমলে নিজেদের প্রিয় সন্তানকে অকালে হারিয়েছে এবং রক্ত দিয়েছে। এটি পুরো ঐক্যবদ্ধ বিরোধী দলের একটি ঐতিহাসিক জয়; যারা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের ন্যায্য স্বার্থে সংসদ থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে।
একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘‘এখন আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে সরকারের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এবং যেসব শিক্ষার্থীর ওপর অন্যায়ভাবে লাঠি ও পেলেট গান চালিয়ে ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছিল; সেইসব দায়ী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পালা মোদির।’’
অন্যদিকে এক্সে দেওয়া পৃথক পোস্টে শিবসেনার (ইউবিটি) জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউত কড়া সুর তুলে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগ প্রমাণ করে মোদি-শাহ জুটি মোটেই অপরাজেয় নন... তারাও খুব শীঘ্রই বিদায় নেবেন!
এ ছাড়া আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল শিক্ষামন্ত্রীর এই ইস্তফাকে ভারতের গণতন্ত্রের একটি ঐতিহাসিক ও বিশাল জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় উচ্ছ্বসিত কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে সমগ্র দেশবাসীকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। এটি আমাদের গণতন্ত্রের বড় একটি জয়।’’