একটি মাত্র সংক্ষিপ্ত জুম কলে ৯০০ জন কর্মীকে একযোগে চাকরিচ্যুত করে বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা বিশাল গর্গ। এবার সেই বিতর্কিত গর্গকেই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে অপসারণ করেছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স’-এর পরিচালনা পর্ষদ।
সংবাদমাধ্যম টাইম অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খ্যাতনামা মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান বেটারের বোর্ড চলতি আগস্টের শুরুর দিকেই গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর পরিবর্তে পরিচালনা পর্ষদে নতুন যুক্ত হওয়া হেজ ফান্ড ম্যানেজার ড্যানিয়েল লুইসকে অন্তর্বর্তী সিইও হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। গর্গ ব্যতীত বোর্ডের অন্য সব পরিচালক সর্বসম্মতিক্রমে এই অপসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। পরিচালনা পর্ষদ জানায়, গর্গের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ, বিচক্ষণতার অভাব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের পাশাপাশি ২০২২ সালের পর থেকে কোম্পানির ১৫০ কোটি ডলারের বেশি লোকসান এবং তাঁর নেতৃত্বে শেয়ারের দাম ৯০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়াই এই পদক্ষেপের মূল কারণ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বড়দিনের ঠিক আগে মাত্র কয়েক মিনিটের একটি জুম মিটিং ডেকে ৯০০ কর্মীকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করেছিলেন গর্গ, যা কর্পোরেট দুনিয়ায় তাকে নির্মম ব্যবস্থাপনার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে তিনি কিছুদিনের জন্য ছুটিতে গেলেও ফের পদে বহাল হয়েছিলেন। তবে গর্গ তাঁর সাম্প্রতিক অপসারণের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, কোম্পানিটি যখন ঋণ বিতরণ তিন গুণ করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল এবং লাভজনক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল, ঠিক তখনই তাঁকে অন্যায়ভাবে সরানো হয়েছে।
একসময় ৮০০ কোটি ডলার বাজারমূল্যের এই কোম্পানিটির বর্তমান মূল্যায়ন মাত্র ৩০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। তবে গর্গ হাল না ছেড়ে সিইও পদে পুনর্বহালের জন্য উচ্চপর্যায়ের আইনি সংস্থা নিয়োগ করেছেন। এমনকি কোম্পানি পূর্ণ লাভজনক না হওয়া পর্যন্ত বছরে মাত্র ১ ডলার বেতনে কাজ করার ব্যতিক্রমী প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী আশা করছেন, দ্রুতই পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আইনি বিরোধের অবসান ঘটিয়ে তিনি পুনরায় পদে ফিরতে পারবেন।