ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

আরাফাতকে বাঁচাতে প্রয়োজন ২.৫ লাখ টাকা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৩১ পিএম

খুলনা প্রতিনিধি:

পাঁচ বছর ধরে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করছেন খুলনার পাইকগাছার তরুণ মো. আরাফাত হোসেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেছে। জমি বিক্রি, সঞ্চয় ভাঙা এবং ধারদেনা করে এতদিন ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে এলেও এখন জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন। অর্থের অভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার চিকিৎসা।

পাইকগাছা উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছার সোনাদানা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরাফাতের বাবা রাব্বানী মালী জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার ছেলের ব্রেন টিউমার শনাক্ত হয়। এরপর খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা ব্রেন টিউমারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, টিউমার ছোট থাকায় প্রথম পর্যায়ে আরাফাতকে ছয় মাসের ওষুধ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ফিরে নিয়মিত ওষুধ সেবনের পর কিছুদিন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও পরবর্তীতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তাকে পুনরায় ভারতের ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সময়মতো অস্ত্রোপচার করা না হলে আরাফাতের চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসায় মোট প্রায় ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে আরাফাতের চিকিৎসার পেছনে পরিবারের প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

এখন প্রয়োজনীয় আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করাই পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ফলে সন্তানের জীবন ও দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় এখন সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতার প্রত্যাশা করছে পরিবারটি।

আরাফাতের বাবা রাব্বানী মালী বলেন, “ছেলেকে বাঁচানোর জন্য যা কিছু ছিল, সবকিছু শেষ করে ফেলেছি। জমি বিক্রি করেছি, ধারদেনা করেছি, মানুষের সহযোগিতাও নিয়েছি। পাঁচ বছর ধরে শুধু ছেলেটাকে সুস্থ করার আশায় ছুটে বেড়াচ্ছি। এখন ডাক্তার বলেছেন দ্রুত অপারেশন করতে হবে, না হলে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে! আমার আর কিছু নেই, এখন মানুষের সহযোগিতাই আমার শেষ ভরসা।”

সোনাদানা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল রহমান লাবলু বলেন, “আরাফাতের পরিবার ছেলেটির চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব শেষ করে ফেলেছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের শেষ সম্বলটুকুও আর নেই। এখন মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জন্য একটি তরুণের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। আমি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে অনুরোধ করব, আরাফাতের পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাও হয়তো তার চোখের আলো এবং জীবন দুটোই বাঁচাতে পারে।”

আরাফাতের পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসা চালিয়ে নিতে দ্রুত অর্থের প্রয়োজন। সহায়তা ও চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ০১৭১২-০১৪৭৭৪ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর