ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট করলেও নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রান করায় এখনও ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াই করছে সফরকারীরা। ২৪ রানে দলের প্রথম ৩টি উইকেটের পতন ঘটলে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে বড় ইনিংসের আশায় প্রথম সেশন শেষ করেছে বাংলাদেশ দল। সেশন বিরতির আগে নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ রানে এবং মুশফিকুর রহিম ৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরুতেই অজি পেসার মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে সফরকারী বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ২ ওভারে ৫ রান তোলার পর তৃতীয় ওভারে বল হাতে নিয়ে এক ওভারেই টানা দুটি উইকেট তুলে নেন অজি পেসার মিচেল স্টার্ক। ওভারের প্রথম দিকে ওপেনার সাদমান ইসলামকে (১) পয়েন্ট অঞ্চলে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচে পরিণত করেন স্টার্ক। ঠিক তার পরের বলেই নতুন ব্যাটার মুমিনুল হকের অফস্টাম্প ভেঙে দেন এই অজি পেসার। কোনো রান না করেই মুমিনুল আউট হওয়ায় মাত্র ৫ রানের মাথায় ২ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ।
দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেটে এসে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং শুরু করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। নবম ওভারে অজি গতিদানব মিচেল স্টার্ককে টানা দুটি দৃষ্টিনন্দন চার মেরে রানের গতি বাড়ান তিনি। প্রায় ১০০ স্ট্রাইক রেটে রান তুলে দলের ওপর থাকা চাপ কমানোর চেষ্টা করেন শান্ত। তবে ওপর প্রান্তে থাকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম বেশি সময় শান্তকে সঙ্গ দিতে পারেননি। খেলার অষ্টম ওভারে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারি লাইনের কাছে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তানজিদ। আউট হওয়ার আগে ৩৪ বল খেলে মাত্র ৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। উল্লেখ্য, ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর টানা দুটি ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তানজিদ। এই ইনিংসে তিনি রানের খাতা খুলতে পারলেও ইনিংসকে বড় করতে ব্যর্থ হন।
তানজিদের বিদায়ের পর বাংলাদেশ যখন ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে গভীর সংকটে পড়ে, তখন অধিনায়কের সাথে উইকেটে এসে যোগ দেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তারা দুজন ধীরস্থিরভাবে খেলে প্রথম সেশনের বাকি সময়টুকু নিরাপদেই পার করে দেন এবং আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি।
এর আগে টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের অষ্টম ওভারেই সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম। ওভারটিতে গ্রিনের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করা হলেও অনফিল্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা নট আউট ঘোষণা করেন। এরপর বাংলাদেশ দল রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শরিফুলের দুর্দান্ত ইনসুইং ইয়র্কারটি গ্রিনের পায়ের আঙুলে লাগলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ওভারটার্ন হয়ে আউট ঘোষিত হয়। বিদায় নেওয়ার আগে ১০৫ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান সংগ্রহ করেন ক্যামেরন গ্রিন।
গ্রিনের বিদায়ের পর নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড শেষ উইকেটে ২৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ একটি জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ২১০ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। লায়ন ৬২ বল খেলে চার মারেন ৪টি এবং ১টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে হ্যাজেলউডকে ৬ রানে সাদমান ইসলামের ক্যাচে পরিণত করে অজিদের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি টানেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১ম ইনিংসে টেস্টে বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সেরা বোলিংয়ের ইতিহাস গড়ে শরিফুল ইসলাম ৪৮ রান দিয়ে ৭টি উইকেট শিকার করেন।