রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্ধারিত তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনে মারাত্মক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ফান্ডের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে অবৈধ বা অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নেওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার করে পুনরায় রাকসু তহবিলে ফেরত জমা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের নিকট একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে এসব দাবি জানায় সংগঠনটির নেতৃত্ব।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে অভিযোগ করেন, রাকসুর বিভিন্ন কর্মসূচির নামে নির্দিষ্ট তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮য় টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে উত্তোলিত অর্থের প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বৈধ বিল-ভাউচার সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি দায়িত্বশীলরা নিজেদের মনগড়া ও ইচ্ছামতো ফান্ড থেকে টাকা তুলেছেন এবং সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
রাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে ছাত্রদল নেতারা স্পষ্ট জানান, এই প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাধারণ শিক্ষার্থীর আমানত। তাই ফান্ডের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব, বৈধ খাত ও সঠিক ব্যয় নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। সোয়া কোটি টাকা যে উদ্দেশ্যে ও যাঁর অনুমোদনে তোলা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ বিবরণ শিক্ষার্থীদের সামনে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম জানান, উপাচার্য মহোদয়ের সাময়িক অনুপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতারা অর্থনৈতিক বিষয়ে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেছেন। সেখানে অডিট ও প্রশাসনিক বিধি না মেনে অর্থ তোলার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসলেই পুরো প্রক্রিয়াটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া অর্থে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
১. রাকসু ফান্ড থেকে উত্তোলিত সোয়া কোটি টাকার প্রতিটি খাতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও অনুমোদনের তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে।
২. উপযুক্ত বিল-ভাউচার ও যৌক্তিক প্রমাণ ছাড়া অর্থ উত্তোলনের সাথে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
৩. রাকসুর যাবতীয় আর্থিক কাগজপত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ নিরপেক্ষ অডিট পরিচালনা করতে হবে।
৪. নিরপেক্ষ ও স্বাধীন অডিট কমিটি গঠন করে সেই তদন্ত প্রতিবেদন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
৫. তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও প্রচলিত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৬. যে ফান্ডের অপব্যবহার হয়েছে বা হিসাব মেলেনি, তা দ্রুত উদ্ধার করে মূল রাকসু তহবিলে জমা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. ভবিষ্যতে যেকোনো খরচে শতভাগ স্বচ্ছতা, নিয়মিত অডিট ও বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার স্থায়ী নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।