গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি মানুষের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি মাধ্যম বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তার মতে, সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ আনন্দ ও ঐতিহ্যকে এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আবারও মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার যোশর বাজারে আয়োজিত ‘ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ঘিরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের অবকাঠামোগত ও বাহ্যিক উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটাতে হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্ষম, মানসিকভাবে সুস্থ এবং শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
নৌকা বাইচকে গ্রামবাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ছোটবেলায় ঢাকার বুড়িগঙ্গায় নৌকা বাইচ দেখার স্মৃতি তার মনে এখনো রয়েছে। তখন এ ধরনের আয়োজন ঘিরে মানুষের মধ্যে যে নির্মল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস তৈরি হতো, সময়ের সঙ্গে সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তন এবং নানা জটিলতার কারণে সেই আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের মতো আয়োজন মানুষের জীবনে সেই পুরোনো আনন্দ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মও দেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক জটিলতা ও প্রতিহিংসার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশকে সুন্দর, স্বাভাবিক ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। শুধু লেখাপড়া বা রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সবাইকে যুক্ত হতে হবে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের পুনর্জাগরণে সমাজের প্রতিটি মানুষের ভূমিকা রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নৌকা বাইচ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত শিবপুর ও রায়পুরার নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীদের অভিনন্দন জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশও তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহি সভাপতিত্ব করেন। নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান নৌকা বাইচের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন ভবিষ্যতেও চালু রাখার মাধ্যমে গ্রামীণ সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।