ক্রীড়া ডেস্ক
ইউরোপীয় ফুটবলে এক অবিশ্বাস্য ও স্মরণীয় রাত উপহার দিল গ্রিস। উয়েফা নেশন্স লিগের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে ১-০ গোলে পরাজিত করে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়ের খরা কাটিয়ে ইতিহাস গড়েছে গ্রিকরা। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের ফুটবল দ্বৈরথের ১১তম দেখায় এই প্রথমবার জার্মানিকে হারানোর স্বাদ পেল গ্রিস। ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও গোলের দেখা পায়নি জার্মানরা, বরং গ্রিসের একটিমাত্র শটই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
জার্মানির অগসবুর্গে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু নতুন কোচ হিসেবে দলটির দায়িত্ব নেওয়া খ্যাতিমান ট্যাকটিশিয়ান ইয়ুর্গেন ক্লপের শুরুটা হলো চরম হতাশার মধ্য দিয়ে। জার্মানির ডাগআউটে বসার পর প্রথম দুই ম্যাচেই জয়বঞ্চিত রইল তার দল। এর আগের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে ১-১ গোলে ড্র করেছিল জার্মানরা। ঘরের মাঠে অগসবুর্গের দর্শকদের সামনে পারফরম্যান্সের গ্রাফ আরও নিম্নমুখী হলো, যেখানে তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেওয়াল ভেদ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ও জয়সূচক গোলটি আসে খেলার একটি দারুণ আক্রমণ থেকে। আর্সেনালের তরুণ উইঙ্গার ক্রিস্টোস জোলিস প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ডান দিক দিয়ে দুরন্ত গতিতে জার্মানির জোশা ভাগনোমানকে কাটিয়ে সতীর্থ কুরবেলিসকে বল বাড়ান। এরপর জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স নেমেচাকে বোকা বানিয়ে তিনি একটি নিখুঁত নিচু শট নেন। সেই শট জার্মান ডিফেন্ডার জোশুয়া কিমিচের গায়ে প্রতিহত হয়ে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। গোটা ম্যাচে গ্রিসের আক্রমণভাগের গোলপোস্টে নেওয়া মাত্র ওই একটিমাত্র শটই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। ৯০ মিনিট জুড়ে জার্মানি বল পজিশন ও শটের প্রদর্শনী করলেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়।
এই জye উয়েফা নেশনস লিগের এ-২ গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করল গ্রিস। প্রথম দুই ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে তারা। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান করছে জার্মানি। এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে সার্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। ইয়ুর্গেন ক্লপের কোচিংয়ে জার্মানি তাদের হৃত গৌরব ফেরাতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে চলছে তুমুল আলোচনা।