জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল আলোচিত মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে। এই বিচারপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আজ ৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের (প্রসিকিউশন) উপস্থাপনে আজ পঞ্চম সাক্ষী ট্রাইব্যুনালের এজলাসে উপস্থিত হয়ে তার জবানবন্দি পেশ করবেন। মামলার বর্তমান পরিস্থিতি ও সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই মামলায় চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন জুলাইযোদ্ধা হান্নান মিয়া। ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার ভয়াবহ দিনগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরেন। সেদিনের সেই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী হান্নান মিয়া সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিচার দাবি করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির জোরালো দাবি জানান।
এদিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন দুজনেই বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিন ধার্য থাকায় আজ তাদের কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে। আদালতের নির্দেশ ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নির্ধারিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে আসামিরা নানা ধরনের উসকানি ও প্ররোচনা যুগিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক পদে আসীন থেকে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন রাজপথে আন্দোলনরত নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করেন এবং নির্বিচারে কারফিউ জারির ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও নির্দেশনার ফলেই তৎকালীন সময়ে আন্দোলনকারীদের ওপর মরণঘাতী গুলি চালানো হয়। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, এই নৃশংস দমনপীড়নের জেরে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ২৩ জন নিরস্ত্র মানুষ প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও বহুসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করছেন, সাক্ষীদের ধারাবাহিক জবানবন্দি এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক মামলার বিচারকার্য অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া নিরীহ মানুষ এবং বর্বরোচিত হামলায় আহতদের পরিবার ও স্বজনদের কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সর্বমহল মনে করছে।