ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬,  ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা ও ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষ উত্তরপত্র গায়েবের ঘটনায় উত্তাল ইবি: তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম ২০০ ডলারে ওঠার আশঙ্কা রামেবি ভিসি ও পিএসকে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র আদায়ের অভিযোগ নার্সিং সেক্টরে ফ্যাসিবাদের প্রশ্রয়দাতা ন্যাবের ‘অঘোষিত সভানেত্রী’ বিলকিস জাহান শত শত স্কুল ব্লকেড করে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ দেশে একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় জনের মৃত্যু

আবরার ফাহাদের ২০ খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর কবে?


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১০:১৬ এএম

বহু আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও অধরা রয়ে গেছে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের ফাঁসির রায় কবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে, যা নিয়ে নিহতের পরিবার ও সচেতন মহলে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের অভ্যন্তরে একদল উশৃঙ্খল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নির্মম ও পৈশাচিক নির্যাতনে প্রাণ হারান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ভিন্নমতের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অপরাধে সহপাঠীদের হাতে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি, যা সে সময় পুরো দেশকে স্তব্ধ ও নাড়া দিয়েছিল। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার একটি বিশেষ আদালত এই মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে বিচারপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের দেওয়া সেই মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিবার আপিল বিভাগে আপিল করলে বর্তমানে মামলাটি সেখানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

 

এদিকে আপিল বিভাগে কবে নাগাদ এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আপিল বিভাগে বর্তমানে ঝুলে থাকা এই মামলাটি দ্রুত শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার মূল আইনি দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিপক্ষের। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রেফারেন্সের ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার লড়াইয়ে নিজেদের সর্বাত্মক দায়িত্ব পালন করেছে। এখন যেহেতু উচ্চ আদালতও সাজা বহাল রেখেছেন, তাই আসামিরা যদি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে দ্রুত মুক্তি বা খালাস চান, তবে তাদেরকেই আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকেও এই বিচার প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা বা বিলম্ব না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সচেষ্টতা বজায় রাখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

 

অন্যদিকে দীর্ঘ সাত বছর ধরে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আবরার ফাহাদের শোকার্ত বাবা বরকত উল্লাহ চরম উৎকণ্ঠা ও আকুলতার সঙ্গে অতি দ্রুত মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন করে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি দেশের আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে গণমাধ্যমকে জানান যে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের পরিবার এখনো কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার ও রায় কার্যকরের মুখ দেখেনি। শিক্ষাঙ্গনগুলো থেকে সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি চিরতরে নির্মূল করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয় এবং কোনো শিক্ষার্থীকে যেন এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়।

 

উল্লেখ্য, হাইকোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, কেবল ভিন্ন মতাদর্শ ধারণ করার অপরাধে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল নিরীহ আবরার ফাহাদকে। বুয়েটের মতো একটি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের মেধাবী শিক্ষার্থী হয়েও যারা এই জঘন্য ও পৈশাচিক অপরাধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল, তারা নিজেদের কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে এড়াতে পারবে না। দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে খুব দ্রুত এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর হবে এবং দেশবাসী একটি ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার দেখতে পাবে—এমনটাই এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর