রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত ‘নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর আবাসন প্রকল্প এলাকায় সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের আলোচিত মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী। রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে দুই হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁর এই জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তারেক রহমান গণমাধ্যমকে এই জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত রবিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক জেহাদ হোসেন আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান তাঁর জামিন চেয়ে আদালতে জোরালো আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রমনা থানার সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন ১ অক্টোবর আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ‘নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর আবাসন প্রকল্প এলাকায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পাশাপাশি রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটায় সজ্জিত হয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ওই তাণ্ডবের সময় হামলাকারীরা জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং সেখান থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার রাতেই সালমান মুক্তাদির তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।