ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬,  ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজে বদলাচ্ছে বিমানের বহর ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের প্রতি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান জামিন পেলেন না এমপি গাজী নজরুল ইসলাম রসায়নে নোবেল জিতলেন ফ্রান্সের কাগান ও জাপানের সোয়াই ওকিনাওয়ায় জাপানি নারী হত্যার জেরে মার্কিন সেনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা! শাপলা চত্বর গণহত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির শুনানি পেছাল তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আগুন ও প্রিয়াংকার নতুন গান

মনুমেন্তালের আকাশে মেসির স্মরণে আলোর রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:০০ এএম

ক্রীড়া প্রতিবেদক 

সব আলোর কেন্দ্রবিন্দুতে তখন একটাই নাম—লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের আকাশে শত শত ড্রোনের জাদুকরী আলোয় যখন ভেসে উঠল ‘গ্রাসিয়াস, লিও’, সে এক অবর্ণনীয় ও আবেগঘন দৃশ্য। বেনিন বধের মাধ্যমে মাঠের লড়াই শেষ হলেও, আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের ভালোবাসা আর ড্রোনের বর্ণিল প্রদর্শনীতে অবিস্মরণীয় এক সমাপ্তি পেল ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

 

আফ্রিকার দেশ বেনিনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে চিরকালের মতো জাতীয় দলের জার্সি খুলে রাখলেন মেসি। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর রেফারি নিজেই এগিয়ে আসেন এবং উপহার হিসেবে মেসির হাতে তুলে দেন ম্যাচের কার্ডের একটি বক্স। তবে খেলার ইতি ঘটলেও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছেড়ে এক পাও নড়েননি হাজার হাজার দর্শক। প্রিয় মহাতারকাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে গ্যালারিভরা মানুষ অপেক্ষা করতে থাকেন আরও কিছুক্ষণ।

 

দর্শকদের এই অন্তহীন ভালোবাসার প্রতিদান দিতে রাতের আকাশকে ক্যানভাস বানিয়ে শুরু হয় চোখধাঁধানো ড্রোনের প্রদর্শনী। প্রথমে ড্রোনের আলোর খেলায় আকাশে ফুটে ওঠে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী পতাকা। এর পরেই ভেসে ওঠে পরিচিত সেই লেখা—‘মেসি, ১০’। এই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই গর্জে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। তবে সবচেয়ে আবেগপ্রবণ মুহূর্তটি আসে যখন শত শত ড্রোন মিলে নিখুঁত কারিগরিতে ফুটিয়ে তোলে ২০২২ সালের সেই সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মেসির বিখ্যাত ছবি, যে শিরোপার জন্য ক্যারিয়ারজুড়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি।

 

ড্রোনের আলোয় একে একে ভেসে ওঠে ‘গ্রাসিয়াস, লিও’ অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ, লিও’ এবং ‘গ্রাসিয়াস আর্জেন্টিনা’। প্রদর্শনীর একেবারে শেষ পর্যায়ে আকাশে ভেসে ওঠে মেসির মুখের পাশের পরিচিত অবয়ব। মাঠের সবুজ গালিচায় তখন বইছে অন্যরকম এক আবেগ। সতীর্থদের মাঝবৃত্তে দাঁড়িয়ে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেননি ফুটবলের এই রাজপুত্র। অশ্রুসিক্ত মেসিকে ঘিরে একে একে দাঁড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার সকল খেলোয়াড়। পুরো স্টেডিয়ামের অবিরাম করতালির রোমাঞ্চকর ধ্বনিতে তাকে জানানো হয় শেষ বিদায়।

 

অথচ এই বিদায়ী ম্যাচটি শুরু থেকেই মেসির জন্য ছিল নিখাদ স্বপ্নের মতো। বেনিনের বিপক্ষে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার করা তিনটি গোলেই ছিল তার সরাসরি অবদান। ম্যাচের প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলাস ওতামেন্দি ও তরুণ তুর্কি নিকো পাজকে দিয়ে দুটি চমৎকার গোল করান তিনি। এরপর ম্যাচের ৭১তম মিনিটে বেনিনের রক্ষণভাগে পেনাল্টি পেলে স্পট কিক থেকে নিজেই বল জালে পাঠান মহাতারকা।

 

এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ ২১ বছরের অবিশ্বাস্য এক পথচলার যবনিকা ঘটল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে রেকর্ড ২০৮তম ম্যাচে মাঠে নেমে মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি করলেন। সবমিলিয়ে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে তার নামের পাশে চিরকালের মতো যুক্ত হলো ১২৬টি গোল এবং ৭০টি অ্যাসিস্ট। সবুজ মাঠ ছেড়ে তিনি দূরে সরে গেলেও কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে এই জাদুকরের নাম।


এ সম্পর্কিত আরো খবর