লিওনেল মেসিকে বিশ্বমঞ্চে চেনার নেপথ্যে যার অবিস্মরণীয় অবদান, সেই বাবা হোর্হে মেসিকে আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে। জীবনের চরম প্রতিকূলতার মাঝেও যিনি নিজের সবটুকু বিসর্জন দিয়ে ছেলের পায়ে পরিয়ে দিয়েছিলেন স্বপ্নের ডানাগুলা। রোজারিও থেকে মাত্র বারো বছর বয়সের এক কিশোরকে নিয়ে স্পেনের মাটিতে পাড়ি জমানোর সুবাদেই বিশ্ব পেয়েছে এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তিকে। তবে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে জীবনের সবচেয়ে আবেগময় বিদায়ী মুহূর্তে সেই প্রিয় মানুষটি পাশে ছিলেন না; ২০০৬ বিশ্বকাপের পরই পৃথিবী ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান তিনি।
ম্যাচ শেষে মাঠে মাইক্রোফোন হাতে যখন কথা বলা শুরু করলেন মহাতারকা, তখন তার দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল। কণ্ঠে ছিল বাবাকে হারানোর বেদনা আর কৃতজ্ঞতার সুর। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘আজকের এই বিশেষ রাতে সবার আগে আমার বাবার কথা মনে পড়ছে। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সির প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরবের বিষয়। আমরা কখনই হাল ছাড়িনি, নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে একটুও পিছপা হইনি। আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামাটাই বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’
এরপর ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা আবারও বিশ্বকাপ জয়ের ঠিক কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। সেই অভিযানে আমরা নিজেদের সম্পূর্ণ শক্তি ঢেলে দিয়েছিলাম। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের সমস্ত সামর্থ্য দিয়ে লড়াই করেছি, আজীবন লড়ে গেছি। বিন্দুমাত্র সন্দেহ রাখবেন না যে, এই পবিত্র জার্সির জন্য আমরা সবসময় নিজেদের সবটুকু উজার করে দিয়েছি।’
সতীর্থদের অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন দলনেতা। সতীর্থদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার সব সতীর্থকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার শৈশবের প্রতিটি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছ—বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সবসময় সত্যিকারের বীর যোদ্ধাদের সান্নিধ্যে ছিলাম। এই চমৎকার পরিবেশকে আমি ভীষণ মিস করব। বিশ্বের প্রতিটি কোণায় স্টেডিয়ামগুলো কানায় কানায় পূর্ণ রাখার জন্য ভক্ত-সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানাই। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলি না কেন, প্রতিটি মাঠই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’