ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬,  ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজে বদলাচ্ছে বিমানের বহর ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের প্রতি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান জামিন পেলেন না এমপি গাজী নজরুল ইসলাম রসায়নে নোবেল জিতলেন ফ্রান্সের কাগান ও জাপানের সোয়াই ওকিনাওয়ায় জাপানি নারী হত্যার জেরে মার্কিন সেনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা! শাপলা চত্বর গণহত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির শুনানি পেছাল তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আগুন ও প্রিয়াংকার নতুন গান

সেন্টমার্টিনে ফ্রি খতনা কর্মসূচির পর অর্ধশত শিশু অসুস্থ


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:৫৩ এএম

টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি সেবামূলক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি সুন্নতে খতনা কর্মসূচির পর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির ঘটনা সামনে এসেছে। খতনা করানোর মাত্র দুই দিনের মাথায় দ্বীপের অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে গুরুতর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ দেখা দেওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে অসুস্থ এসব শিশুকে চিকিৎসার জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে নিয়ে যান তাদের স্বজনেরা। এদের মধ্যে দুই শিশুর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে পাঠানো হয়েছে।

 

গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ওই দিন ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী মোট ২ পিছ শিশুর—সংশোধন: মোট ২১০ শিশুর খতনা সম্পন্ন করে। খতনা শেষে শিশুদের মাঝে কিছু ওষুধপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল। কিন্তু খতনা করানোর পর থেকেই শিশুদের ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও পুঁজ জমার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তীতে কয়েকজনের ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের হাসপাতালে ছুটে যান।

 

সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খতনা করানো প্রায় অর্ধশত শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছে। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম নামের দুই শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দ্রুত টেকনাফে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কানন জানান, তাড়াহুড়ো করে অপারেশন সম্পন্ন করায় প্রয়োজনীয় ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজের ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। এর ফলে ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ থেকে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে, যারা সরেজমিনে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করবেন।

 

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের একটি টিম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর