ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬,  ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, অতঃপর... আইরিশ কোচের গায়ে থুতু দেওয়ার অভিযোগ ইসরায়েলি ফুটবলারের বিরুদ্ধে ফ্লাইদুবাই হামলা: সহ-পাইলটের অস্ট্রেলিয়া সংযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ নতুন পে স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শারদীয় দুর্গোৎসবে সুখবর: মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শহীদ সেনার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত ৪ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোট অর্থহীন: দীপকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফতুল্লায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা, জনতার ইটপাটকেলে ওসি আহত

ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: দুই তরুণের যাবজ্জীবন


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:১৬ পিএম

ফরিদপুর প্রতিনিধি 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের পর চলন্ত মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত উভয় আসামিকে পৃথকভাবে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও জজ শামীমা পারভীন এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।


দণ্ডপ্রাপ্ত দুই অপরাধী হলেন—ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাকান্দি মহল্লার বাসিন্দা মোহন বিশ্বাস (২৬) এবং একই এলাকার তায়েব মাতুব্বর (২৭)। রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।


আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার একটি গ্রামের ওই মাদ্রাসাছাত্রী নিজ বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত মোহন ও তায়েব জোরপূর্বক তার মুখে রুমাল চেপে ধরে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করেন। পরবর্তীতে চলন্ত মাইক্রোবাসটি যখন ভাঙ্গা গোলচত্বর ও মুনসুরাবাদ এলাকার মহাসড়কের দিকে যাচ্ছিল, তখন সেই গাড়ির ভেতরেই ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর সন্ধ্যার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে তাদের বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যান।


এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ৯ আগস্ট ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে ভাঙ্গা থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ মণ্ডল ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযুক্ত দুই জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।


আদালতের রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, ধর্ষণের অপরাধে দুই আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়াও, অপহরণের পৃথক অপরাধে প্রত্যেককে আরও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী দুই ধারায় প্রদত্ত সাজা আসামিরা একত্রে ভোগ করবেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর