গাইবান্ধায় সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম, পদবি ও পোশাক পরিহিত ভুয়া ছবি ব্যবহার করে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অভিনব প্রতারণা চালিয়ে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩ এর একটি আভিযানিক দল সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই প্রতারককে গ্রেফতার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহৃত তিনটি উন্নত মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের পাঁচটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে এসআরবি-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেফতারকৃত প্রতারক চক্রের সদস্যের নাম মো. আফজাল খান ওরফে মমিন (৫৫)। তিনি গাইবান্ধা পৌরসভার বন বিভাগ রোডের দক্ষিণ ধানঘড়া গ্রামের মৃত জান্নাত খানের পুত্র। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আফজাল দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয়, পদবি এবং ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। রংপুর ও ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল মানুষকে সরকারি ও সেনাবাহিনীতে আকর্ষণীয় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন। এমনকি প্রতারণার জাল বিস্তার করতে তিনি অন্যের নামে নিবন্ধিত বিভিন্ন সিমকার্ড ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং ভুক্তভোগীদের নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে সর্বস্বান্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অপরাধী চক্রটিকে পাকড়াও করতে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এসআরবি। এরই ধারাবাহিকতায়, গত রোববার গভীর রাতে সিপিসি-৩, এসআরবি-১৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস দল গাইবান্ধা পৌরসভার বন বিভাগ রোডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকার ‘ভাই বোন ভিলায়’ একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। এই সফল অভিযানে মূল অভিযুক্ত আফজাল খানকে তাঁর আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েন।
এ বিষয়ে এসআরবি-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, এই ঘটনায় এসআরবির পক্ষ থেকে বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত আসামি এবং তাঁর কাছ থেকে জব্দকৃত সমস্ত আলামত পরবর্তী আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ দমন করতে এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে এসআরবির এ ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান দেশব্যাপী অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন তৎপরতায় স্থানীয় সচেতন মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।