নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি চাল আটকের চাঞ্চল্যকর ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করার জেরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল রাণীনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদ নবী বেলাল এবং বিএনপি সমর্থক মামুনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাণীনগর উপজেলার একটি গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই অভিযানে ৩০ কেজি ওজনের মোট ১৮ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়, যার সর্বমোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪০ কেজি। এই চাল জব্দের ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয় যে, যে গোডাউন থেকে চাল জব্দ করা হয়েছে সেটি রাণীনগর উপজেলা বিএনপির এক নেতার। এই সংবাদ প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করার পরই মূলত বিবাদমান পক্ষগুলো সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়।
পরবর্তীতে এই পুরো বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংবাদ সংগ্রহের জের ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং তাঁদের প্রকাশ্যে হুমকি ও লাঞ্ছিত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় যে, চ্যানেল এস টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক ও নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান অন্তর এবং জাতীয় দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়, যা পেশাগত নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এমন অনভিপ্রেত আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক মেহেদী হাসান অন্তর বলেন, সরকারি চাল জব্দের সুনির্দিষ্ট সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও ধারণ এবং জনস্বার্থে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার কারণেই তাঁদের সঙ্গে এমন জঘন্য আচরণ করা হয়েছে। মুক্ত ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন মুরাদ এবং নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা ও লাঞ্ছিত করার এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নওগাঁ জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আজম টুটুল। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে বিষয়টি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁদের নজরে এসেছে এবং এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দল কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত মাহমুদ নবী বেলালকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন, তবে সংগঠনের নিয়মানুযায়ী তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে। তবে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. মাহমুদ নবী বেলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।