সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘটা এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় মায়ের কোলে থাকা মাত্র ৯ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান নিহত হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর বাকবিতণ্ডার সময় ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীর ছোঁড়া লাঠির আঘাতে এই শিশু মৃত্যুর শিকার হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পিতা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার গালা ইউনিয়নের চর দুগলী গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের চর দুগলী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ফজিলা খাতুনের সোমবার সকালে কোনো একটি বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে আব্দুল আলীম তাঁর স্ত্রীকে লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হন। ঠিক সেই মুহূর্তেই মায়ের কোলে নিরাপদে থাকা ৯ মাস বয়সী শিশু হালিমা খাতুনের গায়ে সেই লাঠির মারাত্মক আঘাত লাগে। লাঠির আঘাতে মুহূর্তেই শিশুটির মাথা ও শরীরে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা শিশুটির মা ফজিলা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে মারতে গেলে কোলে থাকা নিষ্পাপ শিশু কন্যার মাথায় স্বামীর হাতের লাঠির আঘাত লাগে এবং চোখের সামনেই তার কোল খালি হয়ে যায়।
এদিকে, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহজাদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই শিশুটির পিতা আব্দুল আলীম পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।