কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার করে লাখ লাখ ভুয়া গান তৈরি এবং হাজার হাজার বট অ্যাকাউন্টের সাহায্যে তা বিলিয়নবার স্ট্রিম করিয়ে প্রায় ৮০ লাখ ডলার রয়্যালটি আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তিকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপরাধ স্বীকার করার পর মার্কিন বিচার বিভাগ এই অভিনব প্রতারণাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স-সহায়িত মিউজিক স্ট্রিমিং প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪ বছর বয়সী মাইকেল স্মিথের বিরুদ্ধে আনীত তারবার্তা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এই সাজা দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে দুই বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত ৮০ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ ডলার ৬৪ সেন্ট সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মার্চ মাসেই তিনি তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছিলেন।
প্রসিকিউটরদের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই অভিনব প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিলেন স্মিথ। প্রথমে অ্যামাজন মিউজিক, অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই ও ইউটিউব মিউজিকের মতো বিশ্বখ্যাত সব স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন তিনি। এসব অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে ভুয়া ই-মেইল ঠিকানা এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা হতো। এরপর বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে ওই বট অ্যাকাউন্টগুলো দিয়ে তার নিজের মালিকানাধীন গানগুলো বারবার স্ট্রিম করা হতো। এই গানগুলোর একটি বড় অংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছিল।
প্রতারণাটি যাতে সহজে কারো নজরে না আসে, সেজন্য এক গানে অতিরিক্ত স্ট্রিম না দেখিয়ে লাখ লাখ গানের মধ্যে স্ট্রিমগুলো সুকৌশলে ছড়িয়ে দিতেন স্মিথ। এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট গানে অস্বাভাবিক স্ট্রিমিং প্যাটার্ন তৈরি হতো না। দ্রুত বিপুল পরিমাণ গান তৈরির জন্য তিনি এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেন এবং বট অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে তা বিলিয়নবার শুনিয়ে ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি হাতিয়ে নেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, গান স্ট্রিম হলে শিল্পী ও স্বত্বাধিকারীরা রয়্যালটির একটি নির্দিষ্ট অংশ পান। কিন্তু স্মিথের এই ভুয়া সূচকের কারণে প্রকৃত ও সৃজনশীল শিল্পীরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এই প্রতারণার ভয়াবহতা বোঝাতে প্রসিকিউটররা মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে তুলনা করেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে শুধু ইউটিউব মিউজিকের ফ্যামিলি প্ল্যান ব্যবহার করে স্মিথের বট অ্যাকাউন্টগুলো তার এআই-নির্মিত গান ৮ কোটি ৯ লাখ বার স্ট্রিম করেছিল, যেখানে একই সময়ে প্ল্যাটফর্মটিতে টেইলর সুইফটের পুরো গানের সংগ্রহ স্ট্রিম হয়েছিল মাত্র ৯৩ লাখ বার।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের পরিবর্তে বট ও ভুয়া গান ব্যবহার করে প্রকৃত শিল্পী ও ভক্তদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর বিচার বিভাগ এই মামলায় ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ পরিভাষাটি ব্যবহার করেছে। (সূত্র: এনডিটিভি)