বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে তাঁর ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা তাঁর রয়েছে। তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শেষ পর্যন্ত তাঁকে এই পুরস্কার প্রদান করবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন।
আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা আমি নির্দিষ্ট করে জানি না। তবে আমার মতো মানুষদের এই পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের একটি পূর্বপরিচিত ধারা ও খ্যাতি রয়েছে।” উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অগ্রণী ভূমিকার জন্য বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া উচিত।
ওভাল অফিসে আলাপকালে ট্রাম্প আরও বলেন, “এখনই উপযুক্ত সময় এই স্বীকৃতি পাওয়ার। তবে এর আগে যিনি এই পুরস্কার পেয়েছিলেন, তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে ইতিহাসের অন্য যে কারও চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই এটি পাওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য।” ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় মার্কিন সমর্থন লাভের আশায় সে দেশের বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে তাঁর প্রাপ্ত ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তাঁর বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্বজুড়ে প্রায় আটটি বড় সংঘাত বা সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির সফল সমাধান কিংবা সেগুলোতে মধ্যস্থতা করা সম্ভব হয়েছে। আর সে কারণেই নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই প্রাপ্য। এর আগে কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারাও তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার দাবি জানিয়েছিলেন, যদিও আন্তর্জাতিক সূত্রগুলোর মাধ্যমে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও দ্য ডনের প্রতিবেদন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।