ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬,  ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন ফজলুল হক নয়ন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হওয়ায় শিশির মনিরকে নিয়ে প্রশ্ন আগামী দুই মাসের মধ্যে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের তাগিদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া আর নেই বিমানবন্দরে যাত্রীর পায়ুপথে মিলল ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সোনা রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তাকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি: প্রজ্ঞাপন জারি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা সোমবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:১৯ পিএম

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় নিজ বাড়ির নির্মাণাধীন ছাদ থেকে রোকসানা বেগম (৪০) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর গলা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্নযুক্ত রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


নিহত রোকসানা বেগম গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার দক্ষিণ পাকুল্লা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মকবুলের স্ত্রী। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি গত দুই মাস ধরে আশুলিয়ায় স্বামীর নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ছেলে আলিফ ও মেয়ে মীমকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।


নিহতের পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে নিজ ভাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছিলেন রোকসানা। এরপর আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তিনি বাড়ির ছাদের ওপর পানির ট্যাংকি দেখতে যান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি নিচে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং ভবনের ছাদে উঠে একপাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল। স্বজনদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ এবং ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।


নিহতের ভাই মো. ইরাক জানান, সন্ধ্যার সময়ও বোনের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছিল, তখন সব কিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বোনের মৃত্যুর সংবাদ পান। তিনি বলেন, তার বোনের সঙ্গে কারও কোনো ধরনের শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। এমন একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেন ঘটল, তা তারা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না। তিনি অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এদিকে দিনেরদুপুরে বা সন্ধ্যার পর সুরক্ষিত একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে একজন নারীকে কীভাবে এভাবে আক্রমণ করা হলো, ঘটনার সময় সেখানে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল কি না এবং অপরাধীরা কোন রুট দিয়ে পালিয়ে গেছে—এসব জটিল প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ নিহতের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পারিবারিক পটভূমি, সম্ভাব্য পূর্বশত্রুতা এবং ওই ভবনে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের একটি তালিকা তৈরি করে নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করছে।


আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আমিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ইতোমধ্যে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের বিভিন্ন টিম মাঠে কাজ করছে।


তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ, পূর্বপরিকল্পিত কোনো হামলা নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর স্পষ্টভাবে জানা যাবে। শোকার্ত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সুবিচার ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর