ক্রীড়া
ডেস্ক
কয়েকদিন
আগে ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ওয়ানডেতে ভারতের সাড়ে তিনশ রান তাড়ায় জয়ের নায়ক ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ। আগের ম্যাচেও ছিল সেঞ্চুরি। এবার ফরম্যাট বদলে টি-টোয়েন্টিতেও হোপ
খেললেন একটি দুর্দান্ত শতরানের ইনিংস। তাঁর এই অসাধারণ ও
বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ক্যারিবীয়রা
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয়
সর্বোচ্চ ২৫০ রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করে শক্তিশালী ভারতকে পরাজিত করেছে।
৬
উইকেটের এই দুর্দান্ত জয়ে
চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে
দারুণভাবে সমতা ফেরাল সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রেয়াস আইয়ার-এর দল নির্ধারিত
ওভারে ৫ উইকেটে বিশাল
২৪৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে শাই হোপের চোখ ধাঁধানো সেঞ্চুরি এবং শেরফান রাদারফোর্ড-এর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের
সুবাদে ৯ বল এবং
৬ উইকেট হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ক্যারিবীয়রা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের
ইতিহাসে এটি তাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের রেকর্ড।
এর
আগে পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে
সর্বোচ্চ ২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, যাদের প্রতিপক্ষ ছিল এই ওয়েস্ট ইন্ডিজই।
স্বাভাবিকভাবেই সেই ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে পুরুষ
টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ ৫১৭ রান সংগৃহীত হয়েছিল। আর এবার ক্যারিবীয়রা
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল। এই ম্যাচে দুই
দল মিলে সর্বমোট ৫০১ রান করেছে। উল্লেখ্য, এই ম্যাচের আগে
ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ২২৩
রানের বেশি তাড়া করে কোনো দলেরই জয়ের পূর্বের কোনো রেকর্ড ছিল না।
টস
হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতীয় দলের ওপেনার অভিষেক শর্মা ইনিংসের প্রথম ওভারে একটি ছক্কা ও পরের ওভারে
দুটি চার মারলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি (১২ বলে ২০
রান)। উইকেটকিপার ব্যাটার
সঞ্জু স্যামসন ইনিংসে দুবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ৯টি
চার ও ৪টি ছক্কার
সাহায্যে ৮২ রানের এক
ঝলমলে ইনিংস খেলেন। তিনি মাত্র ২১ বলেই নিজের
অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তাঁর সঙ্গে জুটি গড়ে ইশান কিষাণ মাত্র ৪৩ বলে মূল্যবান
৯৭ রানের একটি দুর্দান্ত জুটি উপহার দেন। তবে ইনিংসের মাঝপথে পরপর ইশান (২২ বলে ৬
চার ও ২ ছক্কায়
৪৩ রান) এবং শিভাম দুবে (৭ রান)-কে
সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচে দারুণভাবে কামব্যাকের ইঙ্গিত দেন ক্যারিবীয় স্পিনার রোস্টন চেজ।
এরপর
সঞ্জু স্যামসনও পরের ওভারে দ্রুত ফিরে যান। দলের দ্রুত তিন ব্যাটারের বিদায়ের পর পঞ্চম উইকেটে
মাত্র ৩৩ বলে ৮৩
রানের অত্যন্ত বিস্ফোরক এক জুটি গড়ে
দলের স্কোরকে আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা।
আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শ্রেয়াস আইয়ার এবার মাত্র ১৮ বলে ৩টি
করে চার ও ছক্কায় গুরুত্বপূর্ণ
৪০ রান করেন। তিলক ভার্মাও সমান ১৮ বলে ৩টি
করে চার ও ছক্কায় দলের
খাতায় ৪৪ রান যোগ
করেন। ফলে নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেটে স্কোরবোর্ডে
২৪৯ রানের পাহাড়সমান রান জমা করে স্বাগতিক ভারত। এই রানবন্যায় ভরপুর
ম্যাচে ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে রোস্টন চেজ মাত্র ২৪ রান খরচ
করে একাই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।
পাহাড়সমান
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের শুরুতেই প্রথম ওভারে দুটি এবং পাওয়ার প্লের মধ্যেই মোট তিনটি উইকেট হারিয়ে দ্রুত বিপদে ও চাপে পড়ে
যায়। তবে শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের
দুটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ইনিংস দলের ওপর থেকে সেই চাপ মুহূর্তেই কমিয়ে জয় সহজ করে
দেয়। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার
মাত্র ৫৪ বলে অসাধারণ
১২০ রান যোগ করেন। মাত্র ৩৭ বলে ৭টি
করে চার ও ছক্কায় চোখ
জুড়ানো ৮৪ রানের অনবদ্য
ইনিংস খেলে রাদারফোর্ড আউট হলে এই জুটি ভেঙে
যায়। এরপর হোপ এবং রোমারিও শেফার্ড-এর জুটি থেকে
মাত্র ২৬ বলে ঝোড়ো
৭৪ রান আসার পরেই ভারত ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে যায়।
মাত্র
৪৫ বলে ৬টি চার ও ৯টি আকাশচুম্বী
ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১০২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস
খেলে ম্যাচের সেরা তথা ম্যাচ সেরার পুরস্কার অর্জন করেছেন অধিনায়ক শাই হোপ। ইনিংসের শেষদিকে তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া রোমারিও শেফার্ড মাত্র ১৩ বলে ৩টি
করে চার ও ছক্কায় ঝোড়ো
৩৪ রান করেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে মায়াঙ্ক যাদব সফলতম বোলার হিসেবে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন।