ক্রীড়া ডেস্ক:
জাতীয়
ফুটবল দলের নিয়ম ভেঙে আকস্মিকভাবে প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি যে সম্পূর্ণ ভুল
ছিল, তা এবার সরাসরি
ও প্রকাশ্যে নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দল ও পর্তুগাল
ফুটবল ফেডারেশনের যেকোনো সাজা মাথা পেতে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে সেই শাস্তির ধরন এবং সাজার মেয়াদ ঠিক কত দিনের হতে
যাচ্ছে, তা নিয়ে পর্তুগালের
ফুটবল ও ক্রীড়া আইনে
তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও জটিল আইনি
গুঞ্জন। পর্তুগালের ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) ডিসিপ্লিনারি কোড বা শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী
তাঁর সর্বোচ্চ ছয় মাসের আন্তর্জাতিক
নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সেই সাজার মেয়াদ অর্ধেকেরও নিচে কমে সর্বনিম্ন ১৫ দিনে নেমে
আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্তুগাল
জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করে তোলপাড় সৃষ্টি করেন রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট তাকে
বিকল্প খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পর দলটির নতুন
প্রধান কোচ জর্জ জেসুস-এর সঙ্গে তাঁর
গভীর মতবিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ ও
বিস্ফোরক বিবৃতিতে ৪১ বছর বয়সী
এই মহাতারকা ফরোয়ার্ড কোচের বিরুদ্ধে মৌখিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন।
পর্তুগালের
ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির স্পষ্ট ১৬০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ও যুক্তিসংগত কারণ
ছাড়া জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকা কিংবা অনুমতি ছাড়া শিবির ছেড়ে যাওয়ার অপরাধে একজন ফুটবলারকে ন্যূনতম এক মাস থেকে
সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত
সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। পাশাপাশি পেশাদার ফুটবলারদের ক্ষেত্রে কঠোর আর্থিক জরিমানার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
একই
আইনি অনুচ্ছেদে এই জাতীয় অপ্রীতিকর
ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘স্বয়ংক্রিয় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা’ (Automatic
Provisional Suspension)-র
কথাও বলা হয়েছে। পর্তুগালের শীর্ষস্থানীয় খেলাধুলাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'আ বোলা'-কে
বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইনজীবী গনসালো আলমেইদা জানিয়েছেন, শৃঙ্খলাবিধির এই ধারা প্রয়োগের
মাধ্যমে রোনালদো ইতিমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে পরবর্তী ম্যাচে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার জালে পড়ে গেছেন।
তবে
এই স্বয়ংক্রিয় প্রবিধান বহাল থাকলেও ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শৃঙ্খলা কমিটি (Disciplinary
Committee) এখনও পর্যন্ত রোনালদোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম 'গোল'-এর প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, শুক্রবার প্রকাশিত শৃঙ্খলা কমিটির হালনাগাদ করা সাজাপ্রাপ্তদের তালিকায় রোনালদোর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এদিকে
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রোনালদোর জন্য শাস্তির মেয়াদ কমার বড় সুযোগ রয়েছে।
কারণ ওই শৃঙ্খলাবিধিরই ২৪৪
নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, যদি কোনো অভিযুক্ত খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা তাঁর
বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ
ও নিঃশর্তভাবে লিখিত বা প্রকাশ্যে স্বীকার
করে নেন এবং শৃঙ্খলা কমিটির বিচারে সেই স্বীকারোক্তি যৌক্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণিত
হয়, তবে নির্ধারিত শাস্তির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা
৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।
ক্রীড়া
আইনজীবী আলমেইদার ব্যাখ্যামতে, রোনালদোর সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা ও অপরাধের স্বীকারোক্তিকে
শৃঙ্খলা কমিটি আমলে নিলে তাঁর সাময়িক বা চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার
মেয়াদ দাঁড়িয়ে যাবে মাত্র ১৫ দিন থেকে
সর্বোচ্চ তিন মাস। সেক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ কম হলে আগামী
নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পর্তুগালের উয়েফা নেশন্স লিগের পরবর্তী হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলোর আগেই পর্তুগাল জাতীয় দলে রোনালদোর ফেরার আইনি পথ সুগম হতে
পারে।
সাম্প্রতিক
অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের পরপরই গত মঙ্গলবার প্রকাশিত
এক দীর্ঘ বিবৃতিতে সতীর্থ ও ফুটবলামোদীদের কাছে
ক্ষমা চান রোনালদো। অধিনায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, নিজের অনভিপ্রেত আচরণের সমস্ত দায় তিনি গ্রহণ করছেন এবং যেকোনো পরিণতি ও আইনি সাজা
মেনে নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে,
রোনালদোর তোলা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সমস্ত অভিযোগ একবাক্যে অস্বীকার করেছেন পর্তুগিজ কোচ জর্জ জেসুস। তবে রোনালদো নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে এবং ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত খেললে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের দরজা বন্ধ হবে না বলেও ইঙ্গিত
দিয়েছেন জেসুস।
উল্লেখ্য,
আগামী ১৪ নভেম্বর ডেনমার্ক
এবং ১৭ নভেম্বর ওয়েলসের
বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের বহুল প্রতীক্ষিত দুটি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে পর্তুগাল।