যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় কেন্দ্র ঢোকার শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে স্থগিতের খবর পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে চরম বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকেই রাজপথ অবরোধ করে আন্দোলন চালান তারা, যার ফলে রাজধানীর প্রধান প্রধান রুটগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রগুলোতে আসন গ্রহণ করার পরই কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাতমসজিদ রোড, মিরপুরের বাংলা কলেজ এলাকা এবং খিলগাঁওসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা 'প্রশ্ন ফাঁস কেন হলো, প্রশাসন জবাব চাই' সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আড়ং সিগন্যালে সড়ক অবরোধের কথা স্বীকার করে শেরেবাংলা নগর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষার্থীরা সড়ক আটকে অবস্থান নেওয়ায় ধানমন্ডি থেকে আসাদগেটমুখী সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে আসা হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী প্রশাসনিক এই চরম অদক্ষতার মুখে পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। ফরিদপুর থেকে পরীক্ষা দিতে আসা ঈমান মোল্লা ও মাদারটেক কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী তামিম জানান, নির্ধারিত আসনে বসার পর কেন্দ্র পরিদর্শক এসে হঠাৎ জানান যে পরীক্ষা হচ্ছে না। কোনো পূর্বঘোষণা বা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া এভাবে পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, মাত্র ৩০০টি শূন্যপদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। কয়েকটি কেন্দ্রে তো প্রশ্নপত্র বিতরণের পর হঠাৎ স্থগিতের ঘোষণা আসায় চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনা করছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা রাজপথ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তিন দফা দাবির ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবিগুলো হলো—প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল চক্র ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, দূরদূরান্ত থেকে আসা ভোগান্তির শিকার পরীক্ষার্থীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করা। সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা।