ইসলাম ধর্মের অতীব পবিত্র দুই তীর্থস্থান মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা সুরক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার নীতিগতভাবে বিন্দুমাত্র কোনো আপস করবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক যেকোনো পরিস্থিতিতে যদি কখনো প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় বন্ধুপ্রতীম দেশ সৌদি আরবকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন গতিপথ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ। বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্কের দ্বিতীয় প্রধান অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হচ্ছে শ্রমবাজার। প্রথাগত অপ্রশিক্ষিত শ্রমিকের পরিবর্তে এখন সৌদি আরবে বেশি সংখ্যায় উচ্চ দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তি পাঠাতে গভীর আগ্রহী বাংলাদেশ। দুই দেশের এই কৌশলগত সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি হবে পারস্পারিক বিশ্বাস, গভীর আস্থানির্ভরতা এবং সম্মান। বাংলাদেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে চায় না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেমিনারে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যুক্ত করেন, আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় অবদান রাখার প্রত্যক্ষ সুযোগ তৈরি হলে সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
এদিকে, সরকারের আসন্ন বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের বিশেষ সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি, বড় আকারের নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জ্বালানি খাতের কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনার মূল কেন্দ্রে থাকবে।