ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬,  ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিস্টার মোদি, আমরা আপনাকে ঘিরে ফেলছি, পিছু হটব না: তোপ রাহুল গান্ধীর জনস্রোত দেখে আতঙ্কিত মোদি সরকার: আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সঞ্জয় কাপুর এক টাকার মাস্টার লুৎফর রহমান আটটি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ আটকের পরও অনড় ইমরান খান, প্রিজন ভ্যান থেকেই পাঠালেন বার্তা ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছুঁই ছুঁই, ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু আটকের পর নিখোঁজ সিজেপির শীর্ষ তিন নেতা: তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় পরিবার ও দল আগামী সোমবার দিল্লিতে বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের বিশাল বিক্ষোভের ডাক! ভারতে চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক তিন হাজার ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১০৮৬

সব উপজেলায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার


  • আপলোড সময় : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:০৭ পিএম

দলীয় পরিচয় কিংবা ভৌগোলিক অবস্থান নয়, দেশের সব এলাকার মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায় সরকার। দেশের ৫০৩টি উপজেলায় উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কোনো অঞ্চলকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্য এলাকাকে বঞ্চিত না করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সমবায় সমিতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।


শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।


ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একটি উপজেলার জন্য এমন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সমীচীন হবে না, যা পাশের উপজেলার মানুষ ভোগ করতে পারবেন না। উন্নয়ন কার্যক্রমে সব এলাকার মানুষের সমান স্বার্থ ও প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।


সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা শুধু চাকরি করেন না, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে। সীমিত সম্পদের কারণে সব সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে তা কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে।


তিনি আরও জানান, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধার সামঞ্জস্য বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে আসে।


তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের ওপরও জোর দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই হতে হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব ফল যেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, প্রচলিত জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে আসছে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা জরুরি। সৌরশক্তির যথাযথ প্রয়োগ মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ব্যয় সাশ্রয় এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। এ জন্য সরকারের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছায়।


পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যপরিধি ও সুযোগ-সুবিধা আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবসহ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।


দেশের সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, শুধু নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; এগুলোকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে। এসব সমিতি প্রকৃতপক্ষে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার সমিতিগুলোর কার্যক্রম যাচাই করতে এবং সেগুলোকে জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সমবায় ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সমিতি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজেই সমিতি গঠন করে সম্মিলিত উদ্যোগে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদী। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমিতিগুলোর মাধ্যমেও সৌরপ্যানেল স্থাপন করা গেলে দেশের সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া যাবে।


গ্রামের মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সহায়ক সেবা কেনার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতোমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বিগত ১৫ বছরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় তাঁরা আর্থিক ও পারিবারিক জীবনে নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব বহন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর