সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের দাসত্ব করে না উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, দেশের হিন্দু সমাজ অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে শিখেছে। বিগত নির্বাচনে বিপুল ভোটে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা কোনো বিশেষ দলের কাছে জিম্মি বা দাস নয়। বরং তারা সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় গভীরভাবে বিশ্বাসী। তারা স্বাধীন ও সম্মানের সাথে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে সক্ষম।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে শাড়ি বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় শিবগঞ্জের উথলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে সরাসরি বস্ত্র বিতরণ করেন।
পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১২টায় মোকামতলা বন্দর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি স্থানীয় শীতার্ত ও অসচ্ছল নারীদের হাতে শাড়ি তুলে দেন। বস্ত্র বিতরণ শেষে তিনি মোকামতলা কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করে সার্বিক নিরাপত্তা ও উদযাপনের খোঁজখবর নেন। এর আগে সকালে তিনি দুই উপজেলার মোট ৬৫টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির হাতে তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ অনুদান প্রদান করেন।
পূজা উপলক্ষে সরকারের গৃহীত নানামুখী কল্যাণকামী ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে সার্বজনীন, আনন্দমুখর ও নিরাপদ করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিশ্রুত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এবার নির্বাহী আদেশে পূজার সরকারি ছুটি আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিটি মন্দিরের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের অংশ হিসেবে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও তথ্য জানান যে, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশরীরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শনে যাবেন এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের সাথে ঈদের মতো পূজার আনন্দও সমানভাবে ভাগ করে নেবেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যান্য দলের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল চরম দ্বিমুখী নীতি ও অভিনয়ের রাজনীতি করে চলেছে। তারা মুসলিমদের কাছে গিয়ে ধর্মের ও বেহেশতের লোভ দেখায়, আবার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে ঢাকের তালে উলুধ্বনি দিয়ে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করে। ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা এমন চরম ভণ্ড ও অভিনেতাদের দেশের সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শাড়ি বিতরণ ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন পর্ব শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর সমাপনী ও ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সড়কপথে বগুড়া ত্যাগ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।