বগুড়া প্রতিনিধি
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও মন্ত্রণালয়ের ব্যস্ততার মাঝেও নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষকে ভুলেননি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ওপর রয়েছে সারা দেশের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি দলীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড সামলাচ্ছেন। সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাতেও তাঁকে ধারাবাহিক সফর করতে হচ্ছে। এত সব রাজকীয় ব্যস্ততার পরও তিনি ছুটে গেছেন নিজের জন্মমাটিতে। তিনি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি শিবগঞ্জ ও মোকামতলার প্রত্যন্ত জনপদে উপস্থিত হন।
মোকামতলায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্থানীয় হিন্দু নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু কেবল আনুষ্ঠানিক শাড়ি বিতরণের মধ্যেই তাঁর কাজ সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রিয় নেতার আসার খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসেন। সাধারণ মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরেন। কেউ এসেছিলেন প্রিয় নেতাকে কাছ থেকে একনজর দেখতে। আবার অনেকেই এসেছিলেন এলাকার নানা অভাব-অভিযোগ জানাতে। মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহ দেখে প্রতিমন্ত্রী তাঁদের মাঝে গিয়ে দাঁড়ান। তিনি প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন।
তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যার কথা শোনেন। স্থানীয় রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার ঘাটতির কথা শোনেন। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন অভাব ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য নিয়ে তাঁদের সব কথা মন দিয়ে শোনেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে মিষ্টি কথায় আশ্বস্ত করেন। জনগণের সব সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর কাছে মনের কথা বলতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন।
জনপ্রতিনিধির মূল কাজই হলো জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রাখা। কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দপ্তরে বসে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের বাস্তব অবস্থা জানা একজন নেতার জন্য খুবই জরুরি। মোকামতলায় মীর শাহে আলমের উপস্থিতি সেই জনসম্পৃক্ততার অনন্য নজির গড়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা পেলেও তিনি মাটির মানুষ। তবে স্থানীয় যেসব সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন এলাকার সুশীল সমাজ।
জনগণ আশা প্রকাশ করছে, প্রতিমন্ত্রী তাঁদের সমস্যার কথা শুধু শোনেননি, দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ নেবেন। সরাসরি যোগাযোগ তখনই সফল হয়, যখন দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটে। শিবগঞ্জের মানুষ বিশ্বাস করে, তাঁদের প্রিয় নেতা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাবেন। মীর শাহে আলমের এই প্রত্যন্ত সফর সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।