মরুভূমির
চাদরে ঢাকা সৌদির আবহাওয়াতে হঠাৎ এক বিশাল রূপান্তর
লক্ষ্য করা গেছে। তীব্র দাবদাহ আর রোদের ঝলকানির
মাঝে এবার প্রকৃতি তার রুদ্র রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির বিভিন্ন
অঞ্চলে। ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রসহ ঝড় এবং আকস্মিক
বন্যার আশঙ্কায় সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট
জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। সাধারণ মানুষ ও চালকদের বাড়তি
সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৮
অক্টোবর) সৌদি আরবের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)
দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে তীব্র ও ভারী বৃষ্টির
আশঙ্কায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেড অ্যালার্ট
জারি করেছে। মূলত ভারি বজ্রপাত ও মৌসুমি ঝড়ের
প্রভাবে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের
মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
এই
উচ্চপর্যায়ের সতর্কতার আওতাধীন চারটি প্রধান অঞ্চল হলো—জাজান, আসির, আল-বাহা এবং
পবিত্র মক্কা অঞ্চলের কিছু নির্দিষ্ট অংশ। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব এলাকার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে শুরু করে অত্যন্ত ভারী বজ্রসহ বৃষ্টিপাত বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে প্রচণ্ড
শিলাবৃষ্টি এবং শক্তিশালী ও বেগে ধেয়ে
আসা বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে শক্তিশালী
ধুলিঝড় বা ডাস্ট স্টর্ম
সৃষ্টি করতে সক্ষম।
এনসিএম-এর সর্বশেষ আপডেট
অনুযায়ী, চলমান এই অস্থিতিশীল আবহাওয়া
পরিস্থিতি উল্লিখিত চারটি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকায় সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব
ফেলতে পারে। ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের কারণে নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া জাজান, আসির, আল-বাহা ও
মক্কার কিছু অংশ এবং দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশা পড়ার
জোরালো পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই কুয়াশার কারণে
রাস্তায় যানবাহন চলাচলের সময় দূরপাল্লার দৃশ্যমানতা বা ভিজিবিলিটি মারাত্মকভাবে
কমে যেতে পারে, যা সড়ক নিরাপত্তার
জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি
করবে।
অন্যদিকে,
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতি ভিন্নরূপ ধারণ করতে পারে। সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে তাপমাত্রা তুলনামূলক অনেক বেশি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে দেশটির
অন্যতম বাণিজ্য ও শিল্প শহর
দাম্মামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এছাড়া পবিত্র মক্কা নগরে ৩৯ ডিগ্রি এবং
রাজধানী রিয়াদ ও বুরাইদাহ শহরে
৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হতে পারে। পবিত্র মদিনায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
এবং জেদ্দা ও জাজান অঞ্চলে
৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
তুলনামূলক
কম তাপমাত্রার শহরগুলোর মধ্যে হেইলে ৩৩ ডিগ্রি, আরার,
সাকাকা ও নাজরান শহরে
৩২ ডিগ্রি এবং তাবুক শহরে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
তাপমাত্রা থাকতে পারে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমের পাহাড়ি ও উঁচু অঞ্চলে
আবহাওয়া তুলনামূলক অনেক বেশি শীতল থাকবে; যেখানে আভা শহরে ২৫ ডিগ্রি এবং
আল-বাহা অঞ্চলে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
পর্যন্ত তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে।
আর্দ্রতার
মাত্রা বা হিউমিডিটির বিষয়ে
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, আভা, আল-বাহা ও
জাজান অঞ্চলে বাতাসের আর্দ্রতা শতকরা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত
পৌঁছাতে পারে। এছাড়া উপকূলীয় শহর জেদ্দা ও দাম্মামে আর্দ্রতা
থাকতে পারে ৮৫ শতাংশ এবং
পবিত্র মক্কায় ৮০ শতাংশ। অন্যান্য
এলাকার মধ্যে তাবুক, আরার ও সাকাকা শহরে
আর্দ্রতা ৭০ শতাংশ, মদিনা
ও হেইলে ৫৫ শতাংশ, রিয়াদ
ও নাজরানে ৩৫ শতাংশ এবং
বুরাইদাহ শহরে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত
পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এনসিএম। (সূত্র: গালফ নিউজ)