ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,  ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মণিপুরে সহিংসতায় নিহত ৪, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:২১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পৃথক দুটি হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের মরদেহ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহিংসতার প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায়। সেখানে একটি সংগীতানুষ্ঠান চলার সময় পাথর নিক্ষেপ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়।


অন্য ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলোক এলাকায়। সেখানে পাহাড় থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া গ্রামবাসীদের ওপর সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হন। পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে ওই এলাকায় কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


পরপর এসব সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। নিহতদের মরদেহ নিয়ে তাঁরা ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বাসভবনের দিকে মিছিল করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাসভবনের চত্বরে মরদেহ রেখে দেন। পরে কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে মরদেহ সরিয়ে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।


ইম্ফল পূর্ব জেলার বিধায়ক থোকচম লোকেশ্বর সিং জানিয়েছেন, নিহত গ্রামবাসীরা ইম্ফল পূর্ব ও কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। বিধায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, আসাম রাইফেলসের সদস্যরা ওই গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন।


নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন নোংশুম মায়াই লেইকাই এলাকার রাজার ছেলে ৩৫ বছর বয়সী অরুবাম রনিল, যিনি রনিন নামেও পরিচিত; উয়ুমপোক নোংশুম আওয়াং লেইকাইয়ের টম্বির ছেলে ৪৪ বছর বয়সী লাইরেনলাকপাম ইনওবি এবং উয়ুমপোক মায়াই লেইকাইয়ের ক্ষের্তিমায়ুম দেবেনের ছেলে ৩২ বছর বয়সী ক্ষের্তিমায়ুম সুশীল।


এদিকে, আহত ব্যক্তিদের দেখতে রাজ মেডি সিটি হাসপাতালে যান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী হামলার ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।


ঘটনার পর বিধায়ক থোকচম লোকেশ্বর সিং কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। হামলার স্থানটির কাছাকাছি অবস্থিত ‘সিনাই ক্যাম্প’ নামে পরিচিত সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) ক্যাম্পটি সরিয়ে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিহতদের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্র: এনডিটিভি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর