ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,  ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ওয়াশিংটন


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:৪৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের ভারত সফরের আগে তিনি সেখানে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশ অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাঁর বক্তব্যে চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের আশাবাদ স্পষ্ট হয়েছে।


ভারত সফরের সূচি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য হওয়ার কথা দেশটির বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাই। পরে পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের জামনগরে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম একক স্থানে অবস্থিত তেল শোধনাগার পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।


বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও কথা বলেন রুবিও। তিনি জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানির দামের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ওয়াশিংটন এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


রুবিও বলেন, বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ছাড় দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব বিষয় বিবেচনা করেন।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব কিছু জটিলতা রয়েছে, যা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে কোনো কোনো দেশের পক্ষে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ না থাকলেও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের সময় এসব বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।


যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যবিরোধ নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোগত চুক্তির শর্ত নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিল।


গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের আলোচনা শেষ হয়েছে। বর্তমানে চুক্তির আইনি খসড়া তৈরির কাজ চলছে। নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ভারত সমতুল্য বা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে দ্রুত চুক্তিটি চূড়ান্ত করে কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ভারত সরকার।


এর আগে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। গত বছর আরোপ করা এই শুল্কের পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ভারতের রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও অন্যতম কারণ ছিল।


তবে কৌশলগত অংশীদারত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই দেশের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর দেশ দুটির দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার। ফলে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


এ সম্পর্কিত আরো খবর