ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি বহুতল প্লাস্টিকের খেলনা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই নির্মম দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাকিব হাসান (১৮) নামের এক তরুণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আগুনে আরও দুই শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সাথে সাথে কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন।
আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের আতাশুর নারিকেল বাগ এলাকার একটি আটতলা ভবনে অবস্থিত 'আমান প্লাস্টিক কারখানায়' এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের টানা দুই ঘণ্টার ক্লান্তিকর ও যৌথ প্রচেষ্টার পর দুপুর ২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। খবর পাওয়ার পরপরই ১২টা ৩২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও আগুনের তীব্রতা ও ভয়াবহতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে আরও তিনটি ইউনিট এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
রাজধানী ঢাকা ও কেরানীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের মোট আটটি ইউনিটের সম্মিলিত চেষ্টায় দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত মানিক আহমেদ (৪০) ও রাকিব হোসেন (১৮) নামের দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে মানিক আহমেদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে এবং শরীরের শতভাগ (১০০%) দগ্ধ হওয়ায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভবনটির মালিক সাজাহান মজুমদার নামের এক ব্যক্তি এবং আটতলা এই আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের একটি অংশে কেমিক্যাল বা রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে প্লাস্টিকের খেলনা সামগ্রী তৈরি করা হতো। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) কাজী নজমুজ্জামান এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রুহুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খেলনা তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দাহ্য কেমিক্যাল ও রাসায়নিকের মিশ্রণ তৈরির সময় বা রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকেই মূলত এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং কারখানার ভেতরে সুরক্ষাব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।