আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করতেও পুলিশ পিছপা হবে না বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির-এর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিইআইবি) বা টিআইবিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের কড়া প্রতিবাদ ও দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ার তুমুল সমালোচনার মুখে অবশেষে বিষয়টির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আইজিপি মূলত আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়েই ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন; কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এই মন্তব্য করেননি। আজ সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসানের পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আত্মপক্ষক্ষীমূলক স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির-এর বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও শিরোনামের প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এসব রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের প্রায়শই পেশাদার অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী কিংবা আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধ ও মারাত্মক সশস্ত্র আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়। পুলিশ সদর দপ্তর তথ্যের উল্লেখ করে জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসেই পুলিশের ওপর ১৭৬টি বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের প্রচলিত আইন বিশেষ করে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর আরও দাবি করে, আইজিপি তাঁর বক্তব্যে মূলত মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী মারাত্মক অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে চেয়েছিলেন। আইনি কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি চলে এসেছে। একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে বলা হয়, তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করতে চাননি, এটিও অসাবধানতাবশত ঘটেছে। বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা মানবাধিকার সমুন্নত রেখে এবং আইনের শাসন বজায় রেখে জনগণের জানমাল রক্ষায় সম্পূর্ণ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।