দেশজুড়ে প্রাণঘাতী হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় মরণব্যাধি এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ছয়জন রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে এই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার চারশত ছেষট্টি জন মানুষ আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার হিসেবে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। নতুন করে আক্রান্তদের সংখ্যা ও মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান হার দেশজুড়ে এক চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে, যা নিয়ন্ত্রণে এখনই জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ বাইশ হাজার পাঁচশত বাইশ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি টেস্ট ও চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৪৭৮ জন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এই পর্যন্ত নিশ্চিত হামের কারণে ১০৪ জন এবং হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে আরও এক হাজার একশত ঊনত্রিশ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে দেশে হাম এবং এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার দুইশত তেইশ জনে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট এক লাখ সাতানব্বই হাজার নয়শত নিরানব্বই জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে এক লাখ নব্বই হাজার ছত্রিশ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে বরাবরের মতোই ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১১ জন, সিলেট বিভাগে ১৫৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৪ জন, খুলনা বিভাগে ১২২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৮ জন, রংপুর বিভাগে ৬৩ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৩২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও এই রোগের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে টিকাদানের ঘাটতি ও অসচেতনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার এবং যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।