দেশজুড়ে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ চরম আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও পাঁচজন রোগীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে এই সময়ে নতুন করে আরও দুই হাজার দুইশত আঠারো জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক ও ভীতিসন্ত্রস্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার এই নতুন পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে চলতি অক্টোবর মাসেই ডেঙ্গুর থাবায় প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন এই পাঁচজনসহ চলতি বছরে দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ জনে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাসভিত্তিক মৃত্যুর দিক থেকে অক্টোবর মাসেই সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন, যার সংখ্যা ১৪৪ জন।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ছাব্বিশ হাজার একশত ছেষট্টি জনে। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে আরও এক হাজার নয়শত তিরানব্বই জন রোগী হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং এ পর্যন্ত সর্বমোট এক লাখ উনিশ হাজার তিনশত তিরাশি জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর সংক্রমণে বরাবরের মতোই ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৯৪২ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ২৮৪ জন, রাজশাহীতে ২৪৬ জন, চট্টগ্রামে ২৪Map০ জন, বরিশালে ২৩২ জন, ময়মনসিংহে ১২১ জন, রংপুরে ১১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪১ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
কীটতত্ত্ববিদ ও চিকিৎসকেরা বলছেন, বৃষ্টির পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি এবং অসচেতনতার কারণেই ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নগরবাসীকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।