আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েলকে “অবিলম্বে পদত্যাগ” করার আহ্বান জানিয়েছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে এই
আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া একটি সংবাদ প্রতিবেদনও
শেয়ার করেছেন ট্রাম্প, যেখানে পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত প্রেসিডেন্ট হিসেবে
নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পই জেরোম পাওয়েলকে ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক
প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি
বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে “অবিলম্বে পদত্যাগ” করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “‘টু লেট’ অবিলম্বে
পদত্যাগ করা উচিত!!!” মূলত
পোস্টে ‘টু লেট’ বলে
জেরোম পাওয়েলকে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
এছাড়া
পোস্টের সঙ্গে একটি সংবাদ প্রতিবেদন
যুক্ত করেন মার্কিন রিপাবলিকান
এই প্রেসিডেন্ট। সেখানে ফেডারেল হাউজিং ফিনান্স এজেন্সির পরিচালক বিল পল্টে জেরোম
পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানান। তার
অভিযোগ, ফেডের ওয়াশিংটন সদর দপ্তরের সংস্কার
ব্যয় সংক্রান্ত শুনানিতে পাওয়েল মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
উল্লেখ্য,
মূলত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পই জেরোম পাওয়েলকে ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে সুদের
হার না কমানোর অভিযোগে
পরবর্তীতে তিনি বারবার পাওয়েলের
সমালোচনা করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত
ট্রাম্পের হাতে পাওয়েলকে সরিয়ে
দেওয়ার সরাসরি আইনগত ক্ষমতা নেই। এ বছর
শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন,
তিনি পাওয়েলকে বরখাস্ত করার কোনও পরিকল্পনা
করছেন না। কিন্তু অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য সুদ কমানোর
দাবিতে ট্রাম্পের চাপ ক্রমশই বেড়েছে।
সম্প্রতি
জেরোম পাওয়েল মন্তব্য করেন, ফেড হয়তো ইতোমধ্যে
সুদহার কমিয়ে দিত যদি ট্রাম্প
প্রশাসন বিশ্বব্যাপী আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা না দিত। পর্তুগালে
একটি বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনায় যখন তাকে প্রশ্ন
করা হয়— ট্রাম্পের শুল্কনীতি
না থাকলে এ বছরও কি
সুদহার কমানো হতো? — তখন পাওয়েল বলেন,
“আমার মনে হয়, ঠিক
তাই হতো।”
এদিকে
পাওয়েল নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের চাপে তিনি পদত্যাগ
করবেন না। এবং যুক্তরাষ্ট্রের
আইন অনুযায়ী, ফেডের মতো স্বাধীন সংস্থার
বোর্ড সদস্যদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে
সরানো যায় শুধুমাত্র গুরুতর
কারণ দেখাতে পারলে। ১৯৩৫ সালের সুপ্রিম
কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ে
এ কথা স্পষ্ট বলা
আছে। তবে ট্রাম্প অতীতেও
বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার প্রধানদের বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের
অপসারণের চেষ্টা করেছেন, যার অনেকগুলো আদালতে
চ্যালেঞ্জ হয়েছে।
এদিকে
ফেডের ব্যয় সংক্রান্ত কিছু
তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর পাওয়েলের রাজনৈতিক
পক্ষপাত এবং “ভ্রান্ত ও
বিভ্রান্তিকর” সাক্ষ্যের তদন্ত করতে ফেডারেল হাউজিং
ফিনান্স এজেন্সির পরিচালক বিল পল্টে কংগ্রেসের
প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়
লেখেন, “এসবই যথেষ্ট তাকে
বরখাস্তের জন্য।” এর আগে গত
সপ্তাহে জেরোম পাওয়েল মার্কিন সিনেটকে বলেছিলেন, ফেডের প্রধান কার্যালয়ের সংস্কার ব্যয় নিয়ে যে
তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা “বহু দিক
থেকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর।”