সোমবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের সিভিল এভিয়েশন-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শাকিলা পারভিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার বিমানবন্দরে কোনো আন্তর্জাতিক শিডিউল ফ্লাইট পরিচালিত হবে না। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক নন-শিডিউল বা জরুরি অবতরণ (ইমার্জেন্সি/ডাইভারশন) এর ক্ষেত্রেও কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে সরকার।
চলতি বছরের ২ অক্টোবর দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয় যে, ১২ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। একই দিনে বিমানবন্দরটিকে “আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর” হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেই ঘোষণাটি স্থগিত করা হয়। ফলে কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর স্বপ্ন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রস্তুতির কিছু বিষয় এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে। সম্প্রতি রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ এবং আধুনিক ন্যাভিগেশন সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতো। স্থগিত ঘোষণায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
একজন স্থানীয় হোটেল মালিক বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হলে বিদেশি পর্যটক বাড়বে, ব্যবসাও বাড়বে। এখন আবার সেই আশা থমকে গেল।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা প্রটোকল শতভাগ প্রস্তুত না হওয়ায় সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত দ্রুত জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর