ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের হামলার বিচার চাইলেন ড্যাফোডিলের উপাচার্য


ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৭:২৮ পিএম

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় দোষীদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির। তিনি বলেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আমিনুল ইসলাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “এ ঘটনায় মামলা কে করবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আইন মেনে চলার চেষ্টা করছি। যদি আমরা রিপোর্ট করি, তাহলে যার দায় আছে, সে এর জবাব দেবে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এটি বহিরাগতদের কাজ কিনা। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। একই সঙ্গে ইউজিসি স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে।”

উপাচার্য আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউজিসি ও সরকারের নির্দেশনা হলো— এমন কোনো পদক্ষেপ যেন না নেওয়া হয়, যা অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি করে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে প্রফেসর ড. এম আর কবির জানান, সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর শরীরে থুথু নিক্ষেপ করলে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে রোববার রাতে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়।

তিনি বলেন, “রাত ৯টার পর ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের যেখানেই পেয়েছে, সেখান থেকেই জিম্মি করা হয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের বন্ধুদের উদ্ধারে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনে জিম্মি করে রাখা হয়। তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং জোর করে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা হয়।”

উপাচার্য অভিযোগ করেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকার নগদ অর্থ পরিকল্পিতভাবে সরানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মিডিয়া কাভারেজ তৈরি করে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে।”

উপাচার্য আরও বলেন, “বর্তমানে ছয়জন শিক্ষার্থী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসায় বিলম্ব জীবননাশের প্রচেষ্টার শামিল। যেসব শিক্ষার্থীকে সারাদিন আটক রাখা হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, অস্ত্রের কোনো প্রমাণই নেই।”

তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে নির্দোষ শিক্ষার্থীদের অপরাধী বানানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইছে, দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মাসুম ইকবাল এবং এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর