ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই লাখ টাকার লোভে সন্তানকে হত্যা


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:১০ পিএম

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গোষ্ঠীগত সংঘাতের আড়ালে মায়ের হাতে সন্তান বিক্রির নির্মম ঘটনা ঘটে। সিরাজগঞ্জের পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের যুবক সিরাজুল ইসলাম (২৫) বাড়ি থেকে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে নেওয়া হয় এবং আর ফিরে আসে না। উদ্বিগ্ন পরিবার রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি। পরদিন ভোরে গ্রামের একটি রাস্তার ওপর তার রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেনের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও নিবিড় গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। তিন নভেম্বর শাহজাদপুর থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ আল আমীন মন্ডল (৩৮), মোঃ সেলিম মন্ডল (৩২), মোঃ আমিরুল ইসলাম (৩৩), মোঃ ওমর ফারুক (৩৮) এবং মোঃ আব্দুল গফুর প্রামানিক (৫৫)।

আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নেওয়ার পর আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেয়। জানা যায়, এলাকার প্রভাবশালী দুটি গোষ্ঠী—মুসা মন্ডল ও গফুর প্রামানিক গোষ্ঠী এবং চুন্নু মেম্বার ও খোকন মাস্টার গোষ্ঠী—দীর্ঘদিন বিরোধে লিপ্ত ছিল। ২০২১ সালের একটি হত্যা মামলায় গফুর প্রামানিক গোষ্ঠী ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে আপোষ করে। কিন্তু সেই টাকা পরিশোধ না করে প্রতিপক্ষকে নতুন মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন তারা।

তদন্তে জানা গেছে, সিরাজুল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার মা তার প্রতি অতিষ্ঠ ছিলেন। এই সুযোগ নেয় আসামিরা। সমাপ্ত (ছদ্মনাম) নামের এক আসামি সিরাজুলের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে হত্যার প্রস্তাব দেয়। সমাপ্ত অন্য আসামিদের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে, নিজের কাছে ৫০ হাজার রেখে বাকি দেড় লক্ষ টাকা সিরাজুলের মায়ের হাতে তুলে দিয়ে কার্যত তার ছেলেকে “কিনে নেয়”।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর রাতে সিরাজুলকে ডেকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। গভীর রাতে, সাড়ে তিনটার দিকে, আসামিরা তাকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে আসে। সেখানে প্রথমে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। পরে ছোরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যাকারীরা পরে ছড়িয়ে যেন কিছুই ঘটেনি।

গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানায়, পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সাধারণ নয়, এটি সামাজিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক সম্পর্কের অর্থের কাছে পরাজয়ের করুণ প্রতিচ্ছবি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর