ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

বগুড়ায় ভয়াবহ আগুনে ৪ পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৪৭ পিএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা গ্রামের উত্তরপাড়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই চার পরিবারের ঘর-বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসহায়ভাবে চোখের সামনে নিজেদের জীবনভর গড়ে তোলা সবকিছু ধ্বংস হতে দেখেছেন চার পরিবারের মানুষরা।

ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পরিবারই মৃত আবুল হোসেন সরকারের সন্তান—ছেলে শহিদুল ইসলাম, মাসুদ রানা, সুইট রানা এবং তাদের একমাত্র বোন রিনা পারভিন। তারা আলাদা আলাদা ঘরে থাকতেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতার মুখে চারটি ঘরের একটি কাঠামোও দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। পুরো ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, পোশাক, বৈদ্যুতিক সামগ্রীসহ সবকিছুই মুহূর্তে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

পরিবারগুলোর দাবি, আগুনে প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, দুটি ফ্রিজ, টিভি, আলমারি, বিছানাপত্রসহ ঘরের সব প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সুইট রানা জানান, ব্যবসা শুরু করার জন্য তিনি সম্প্রতি জমি বিক্রির কিছু টাকা হাতে পেয়েছিলেন। পরদিন ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “সবকিছু নতুনভাবে শুরু করব ভেবেছিলাম। কিন্তু একটি মুহূর্তে সব পুড়ে শেষ হয়ে গেল। এখন হাতেও কিছু নেই, মনের শক্তিটুকুও শেষ।”

রিনা পারভিনের ঘর থেকেও এক লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ ও জমিতে ঘর নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত নির্মাণসামগ্রী এক নিমিষে ধ্বংস হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কেউ ঘর থেকে কোনো কিছু বের করার সুযোগ পাননি।

এই ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় শিক্ষক নুরুল আমিন ও ওমর ফারুক বলেন, “ফায়ার সার্ভিস একটু আগে আসতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতো। আগুনের গতি এতটাই ভয়ানক ছিল যে চোখের সামনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও কেউ কিছু করতে পারেনি।”

খবর পেয়ে ধুনট ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ঘটনাস্থলটি ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় তাদের আসতে সময় লেগেছে। ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা গিয়ে আগুনের বিস্তার রোধ করি। কিন্তু তার আগেই চার পরিবারের সম্পূর্ণ ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।”

অগ্নিকাণ্ডে সব হারানো মাসুদ রানা বলেন, “আমার চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। একটা জিনিসও রক্ষা করতে পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”

ফায়ার সার্ভিসের হিসাব অনুযায়ী এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। চার পরিবার এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। ঘর নেই, পোশাক নেই, খাবার নেই, সঞ্চয় নেই—আর আছে শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে জরুরি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর