বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার শাজাহানপুরে একই ঘর থেকে দুই শিশু সন্তানের গলা কাটা মরদেহ এবং তাদের মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ধারণা, দুই শিশুকে হত্যা করার পর মা আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
নিহতরা হলেন—শাজাহানপুর উপজেলার খৈলশাকান্দি গ্রামের সেনা সদস্য শাহাদত হোসেন কাজলের স্ত্রী সাদিয়া বেগম (২৫) এবং তাদের দুই সন্তান ৭ মাস বয়সী সাইফ ও ৪ বছর বয়সী সাইফা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের বিছানায় দু’শিশুর গলা কাটা অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। একই ঘরের খাটের ওপরে সাদিয়া বেগমের গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশ গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সাদিয়ার স্বজনরা জানান, বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি আসেন সেনা সদস্য শাহাদত হোসেন কাজল। পরিবারের দাবি—সোমবার গভীর রাত এবং মঙ্গলবার সকালে দম্পতির মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়।
নিহত সাদিয়ার খালা কল্পনা আক্তার অভিযোগ করেন, সোমবার শাহাদত হোসেন শ্বশুরের কাছে একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। তিনি আরও বলেন, “আজ সকালে খবর পাই দুই নাতিনাতনিকে গলা কেটে হত্যা করে সাদিয়াকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ঘরের ভেতর থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই শিশুর গলা কাটা এবং মায়ের গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত চলছে।
তিনি জানান, ঘটনার পর নিহতের স্বামী শাহাদত হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিনি আরও বলেন, “এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, কিংবা ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি-না—সব দিক নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।”
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুই শিশু এবং তাদের মায়ের এমন নির্মম মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্বজনরা দাবি করেন, পারিবারিক বিবাদের জেরে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, কেবল স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না; ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ আরও জানায়, রাতের কোনো এক সময়ে প্রথমে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা। পরে মা আত্মহত্যা করেছেন কি-না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল কি-না, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রতিবেশীদের বক্তব্য—সব সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শাজাহানপুর থানা সূত্র জানায়, শিশু দুটির হত্যায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক টিমও কাজ করছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর