ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু আইন নয়, আচরণ পরিবর্তনও দরকার: জেলা প্রশাসক


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৭:৫২ পিএম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, কেবল সভা-সমাবেশে ভালো কথা বলে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নারী, কন্যাশিশু বা যারা সহিংসতার শিকার হন, তাদের ওপর সহিংসতা আমাদেরই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই ঘটে থাকে।”

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ উপলক্ষে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, “জেলখানায় প্রায় তিন হাজার মাদক মামলার আসামি সাজা ভোগ করলেও মাদকাসক্তের সংখ্যা কমছে না। অর্থাৎ শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, আমাদের চরিত্র ও আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে।”

জাহিদুল ইসলাম নারীর নিরাপদ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিকতা শেখানোর জন্য সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঠিক ব্যক্তিত্ব ও নৈতিক আচরণ প্রদর্শনের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য দেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম এবং জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোছলেহ উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস।

মো. ফরিদুল আলম বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুর তথ্য সংগ্রহ করে সমন্বিত কর্মসূচি পরিচালনা করবে। মোঃ মোছলেহ উদ্দিন নারীর আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রত্যাশীর প্রধান নির্বাহী মনোয়ারা বেগম, ইলমার প্রধান নির্বাহী ও মানবাধিকার কর্মী জেসমিন সুলতানা পারু, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের মোহাম্মদ আলী সিকদার, এবং ব্র্যাক, ইপসা, যুগান্তর, ঘাসফুল, বিটা, সিডিসি, উষা নারী উন্নয়ন সংস্থা, ওয়াইএসডি, কারিতাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী নারী, প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ সচেতনতা, গণপরিবহন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও সক্রিয়করণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।

অংশগ্রহণকারীরা গত দশ মাসে নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার তথ্য তুলে ধরে বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পারিবারিক শিক্ষা ও নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা দেখলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পরিবারে পুত্রসন্তানের বিয়ের পর নানা সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা যেন নারীর ওপর চাপ না পড়ে, সে বিষয়ে সবাই সচেতন হোক।” তিনি নারীর শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতার গুরুত্বও গুরুত্বারোপ করেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর