ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বড়পুকুরিয়ার কয়লায় মুনাফা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোটি কোটি লোকসান


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:১৩ পিএম

দেশের একমাত্র কয়লাখনি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লার দাম প্রতি টনে ১৭৬ ডলার ধরা হলেও, আমদানি করা কয়লার জন্য গড়ে খরচ পড়ছে মাত্র ৭৫ ডলার। এই উচ্চমূল্যে কয়লা বিক্রি করে সরকারি কয়লা কোম্পানি টানা তিন অর্থবছর ব্যাপক মুনাফা অর্জন করেছে। মুনাফার একটি অংশ পাচ্ছেন কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যাঁরা বেতন-ভাতার বাইরে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেন। অপরদিকে, একই কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিত লোকসান করছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা মাইনিং কোম্পানি পেট্রোবাংলার অধীনে পরিচালিত হয় এবং চীনা ঠিকাদারের মাধ্যমে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করে বিক্রি করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বড়পুকুরিয়ার কয়লা কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে বড়পুকুরিয়ার কয়লার দাম প্রতি টনে ১৩০ থেকে বাড়িয়ে ১৭৬ ডলার করা হয়। এর ফলে কোম্পানির মুনাফা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মুনাফার ১০ শতাংশ ভাগ করে নেয় কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, পিডিবি বড়পুকুরিয়ার কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নির্ধারিত দামে বিক্রি করে কিন্তু দীর্ঘ তিন অর্থবছর লোকসানের মুখোমুখি। পিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত এই কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তৈরি, যেখানে অন্য কোথাও থেকে কয়লা আনা যায় না।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়া সূচক অনুযায়ী কয়লার দাম গড়ে ৯৯.৫৮ ডলার হয়েছে, যা আগের ১৭৬ ডলারের তুলনায় কম হওয়ায় লোকসান কিছুটা কমেছে। তবে বড়পুকুরিয়া কয়লার দাম এখনো আমদানিকৃত কয়লার থেকে প্রায় দ্বিগুণ।

খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়লার মূল্য বেশি হওয়ার কারণ হলো ভূগর্ভ থেকে গভীরতম জায়গা থেকে কয়লা উত্তোলন করা হয়, যা ব্যয়বহুল। পেট্রোবাংলার চুক্তি অনুযায়ী চীনা ঠিকাদারকে ডলারে বড় অঙ্কে অর্থ প্রদান করতে হয়, যা মূল্য বৃদ্ধির একটি কারণ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বড়পুকুরিয়া কয়লার দাম অনেক বেশি, যা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় অনিয়মের ইঙ্গিত। আমদানিকৃত কয়লার চেয়ে দ্বিগুণ দামে কয়লা কেনার কারণে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের লোকসান বাড়ছে এবং এ অনিয়ম সরকারিকেও অংশগ্রহণকারী করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, এ বিষয়ে দু’দপ্তর একত্রে বসে বড়পুকুরিয়া কয়লার ন্যায্য দাম নির্ধারণ করবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর