আজহারুল হক, ময়মনসিংহ / : 54
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ইনচার্জ ডা. ধনদেব বর্মনের মধ্যে প্রকাশ্যে ‘বাগবিতণ্ডা’র ঘটনা ঘটেছে। পরিদর্শনের মধ্যেই সংঘটিত এই পরিস্থিতির জেরে ডিজি ডা. ধনদেব বর্মনকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সকালে শিশুদের মূত্রাশয় ও প্রজননতন্ত্রের চিকিৎসা বিষয়ক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে মমেক হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। সেমিনারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জরুরি বিভাগের কার্যক্রম, সেবা প্রদানের মান, রোগী ব্যবস্থাপনা, জনবল উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। হাসপাতালের সেবা-ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিজি কিছু অসন্তোষ প্রকাশ করলে চিকিৎসক ও স্টাফদের অবস্থান সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানতে চান।
পরিদর্শনের সময় ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ইনচার্জ ডা. ধনদেব বর্মন তার বিভাগের সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং শারীরিক-মানসিক চাপের কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল কম থাকায় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে উঠছে এবং এর প্রভাব পড়ছে সেবার মানের ওপর। এ বক্তব্যের পরপরই ডিজির সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। হাসপাতালের অন্য চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা চেষ্টা করেও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেননি।
হঠাৎ করেই ডিজি অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর ডা. ধনদেব বর্মনকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, জনবল সংকট ও অতিরিক্ত দায়িত্বের কথা তুলে ধরা একজন চিকিৎসককে এভাবে প্রকাশ্যে তিরস্কার বা বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিদর্শনের সময় সেবার মান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মহাপরিচালক ও ডা. ধনদেব বর্মনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে, যা কোনভাবেই কাম্য নয়। তবে এখনই এই বিষয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক মহল, সাধারণ রোগী, স্বজন ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সংকট দূর করার পরিবর্তে একজন চিকিৎসককে প্রকাশ্যে এভাবে অপমানিত করা দৃষ্টান্ত হিসেবে সঠিক বার্তা বহন করে না। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিজির সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় ছিল। সব মিলিয়ে জনবলঘাটতি, কাজের চাপ, ব্যবস্থাপনা সংকট এবং প্রকাশ্যে তিরস্কারের ঘটনায় মমেক হাসপাতালের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।