উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 63
রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে টানা ২৭ ঘণ্টা ধরে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে নলকূপের জন্য খনন করা একটি গভীর গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। সে পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিব উদ্দীনের ছেলে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রথমে কয়েক দফা ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু গর্তের ভেতরে ওপর থেকে পড়ে যাওয়া মাটি, খড় ও কাদার স্তূপের কারণে শিশুটিকে দেখা যায়নি। গর্তটির গভীরতা ধারণা করা হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ ফুট। এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ক্যামেরা দিয়ে ৪২ ফুট গভীরতা পর্যন্ত অনুসন্ধান করেছে, কিন্তু তাতেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিস জানায়, এখন গর্তটির আশপাশে বড় পরিসরে মাটি খনন করা হচ্ছে। তিনটি এক্সকেভেটর দিয়ে দ্রুতগতিতে মাটি সরানোর কাজ চলছে। খনন করা অংশ থেকে সুড়ঙ্গ করে মূল নলকূপের গর্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। তবে গর্তের ভেতরে পানি, কাদা ও ভেঙে পড়া মাটির স্তর উদ্ধার কাজে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাইজুল ইসলাম বলেন, “মাটির ওপর থেকে ৪২ ফুট গভীরতায়ও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এখন আশপাশের মাটি খনন ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য।”
স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের অপেক্ষায় উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন। এলাকাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। শিশুটির বাবা রাকিব উদ্দীন ও মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। মা বারবার বলছেন, “আল্লাহ আমার ছাওয়ালকে তুমি কাইড়া নিও না।”
এদিকে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত গর্তে কয়েকবার ক্যামেরা নামানো হয়। কিন্তু গর্তের ভেতর ধস নামা মাটি ও খড়ের কারণে ক্যামেরা দৃশ্য ঠিকভাবে ধারণ করতে পারেনি। ফলে উদ্ধারকারীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, গর্তটি খুব সরু হওয়ায় সরাসরি উদ্ধার সম্ভব নয়। তাই আশপাশের মাটি খুঁড়ে বড় একটি জায়গা তৈরি করা হচ্ছে। পরে সুড়ঙ্গের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান নির্ধারণ করে তাকে বের করে আনার চেষ্টা করা হবে। কাজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সময়ও বেশি লাগছে।
ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো রাতদিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সহযোগিতা করছেন। অভিযানে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গর্তের ভেতর শ্বাস নেওয়ার মতো সম্ভাব্য জায়গা তৈরি হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে উদ্ধারকারীরা আশাবাদী যে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই গর্ত খননের পরপরই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন গর্তটি কেন খোলা ছিল, তা যাচাই করছে বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, মাটির গঠন খুব নরম হওয়ায় কাজটি অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। তবুও শিশুটির জীবন রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আকাশজমিন / আরআর