মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা মৃত্যু ঘটিয়েছে ছাত্রদলের এক কর্মীর। নিহত ছাত্রদল কর্মীর নাম মোহাম্মদ তাহমিদ উল্লাহ, বয়স ২৩। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত তাহমিদ বারৈয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের ছেলে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের উত্তর জেলা সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। শেষপর্যায়ে তিনি ছাত্রদলে যোগ দেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের শুরু ঘটে বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় সালিশকে কেন্দ্র করে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মারামারি শুরু হয়, এতে গুরুতর আহত হন তাহমিদ উল্লাহ।
চমেক হাসপাতালে কর্মরত জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, “গুরুতর আহত অবস্থায় তাহমিদকে প্রথমে জোরারগঞ্জে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর রাতে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।”
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, “বারইয়ারহাট বাজারে সংঘর্ষে মোহাম্মদ তাহমিদ উল্লাহ আহত হয়। পরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের আগে উভয় পক্ষের মধ্যে তিক্ততা লেগেই ছিল। সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে সহকর্মীসহ স্থানীয়রা আতঙ্কিত হন।
এ ঘটনায় ছাত্রদলের অন্য নেতারা জানিয়েছেন, নিহত তাহমিদ উল্লাহ ছিলেন শান্তিপ্রিয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষ্ঠাবান। তার মৃত্যু দলের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ এড়াতে সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা শান্তিপূর্ণ সমাধানমূলক পথ অবলম্বন করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মীরসরাইবাসী উদ্বিগ্ন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল।
আকাশজমিন / আরআর