নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় জামায়াতের নেতারা উপস্থিত থাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। রোববার উপজেলার অডিটরিয়ামে এই ঘটনা ঘটে। সকালেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন শুরু হয়। এরপর বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দাওয়াত পেয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সভা বর্জন করে চলে যান।
মুক্তিযোদ্ধারা পরে শহরের স্টেশন রোডে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জানান, ‘স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত নেতাদের মঞ্চে স্থান দেওয়ায় আমরা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নির্মম হত্যার সঙ্গে যুক্ত, তাদের সঙ্গে বসা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
তারা আরও জানান, অনুষ্ঠানের আগে তারা ইউএনওকে জামায়াত নেতাদের অনুষ্ঠানে না রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন তাদের অনুরোধ অগ্রাহ্য করে। ‘যদি ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসেও জামায়াতের নেতারা অংশগ্রহণ করে, তাহলে আমরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানও বয়কট করবো।’ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক, যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রহমান ও সদস্য-সচিব গোলাম মোস্তফা এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব রাজনৈতিক নেতাকে দাওয়াত দিয়েছি। বীর মুক্তিযোদ্ধারা সভায় বিলম্বে আসায় তাঁদের জন্য আলাদা চেয়ারও রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা চেয়ারে বসেননি এবং হলরুম ত্যাগ করেন।’
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মোহনগঞ্জে বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা বিতর্কিত হয়ে ওঠে। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, তারা স্বাধীনতা সংগ্রামের মর্যাদা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে চান এবং এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে বিরত থাকতে চান।
আকাশজমিন / আরআর