ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার পর আগুন দেওয়া হয় দীপুর মরদেহে


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১:৫২ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে মারধর, পরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ভালুকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার বাইরে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত দীপু চন্দ্র দাস (২৫) ওই কারখানায় প্রায় তিন বছর ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে কারখানার ভেতরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে দীপুকে সেখানে ডাকা হয়। ওই সময় তিনি কটূক্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

কারখানা কর্তৃপক্ষ পরে দীপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে বের করে দেয়। এরই মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে নিজেদের ‘তৌহিদি জনতা’ পরিচয় দেওয়া একদল মানুষ কারখানার গেটে জড়ো হয়। রাত ৯টার দিকে দীপু কারখানার প্রধান ফটক দিয়ে বের হলে প্রথমে সেখানেই তাকে মারধর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক কামাল হোসেন জানান, মারধরের পর দীপু চন্দ্র দাসকে জোরপূর্বক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে তাকে বেঁধে ঝুলিয়ে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এই বর্বর ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহত দীপু চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর